কক্সবাজারে পু’লিশের গু’লিতে নি’হত সে’নাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের স’ঙ্গে ত’থ্যচিত্র নির্মাণে যু’ক্ত থাকা শিপ্রা দেবনাথের ‘চরিত্র হননের’ চেষ্টা চলছে বলে অ’ভিযোগ করেছে তার পরিবার।

তাদের ভাষ্য, শিপ্রার ব্যক্তিগত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এসব ছেড়ে দিয়ে একটি চ’ক্র শিপ্রার চরিত্র হননের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি সিনহা হ’ত্যার বি’ষয়টি আড়াল করতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

দুই বছর আগে সে’নাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের স্বপ্ন ছিল বিশ্বভ্রমণ। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে গিয়ে তার স’ঙ্গে শিপ্রার পরিচয়, বন্ধুত্ব;

সেখান থেকেই ‘জাস্ট গো’ নামের ট্র্যাভেল ডকুমেন্টারি তৈরির পরিকল্পনা শুরু। এর ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে চারজনের একটি দল। সিনহা আর শিপ্রার স’ঙ্গে এই দলে ছিলেন সাহেদুল ইস’লাম সিফাত আর তাহসিন রিফাত নূর।

জুলাইয়ের শুরুতে তাদের এই দলটি কক্সবাজারে গিয়ে ডকুমেন্টারির জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু ৩১ জুলাই রাতে মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পু’লিশের গু’লিতে অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহার মৃ’ত্যু বদলে দেয় সব।

সিনহাকে গু’লি করে হ’ত্যার ঘ’টনার সময় তার গাড়িতে থাকা সিফাতকে গ্রে’প্তারের পর শিপ্রাকে ধরতে নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চা’লায় পু’লিশ। এসময় দুই বোতল ভদকা, তিন বোতল ভ্যাট-৬৯, এক পুরিয়া গাঁ’জা ও পানির বোতলে এক লিটার দেশীয় ম’দ উ’দ্ধার দেখিয়ে মা’মলা করে পু’লিশ।

তবে রিসোর্টে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক থাকলেও পু’লিশের জ’ব্দ তালিকায় তা দেখানো হয়নি। সেই ল্যাপটপে যেসব ছবি ও ভিডিও ছিল সেসবই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিপ্রা ও তার ছোট ভাই শুভজিৎ কুমা’র দেবনাথ।

ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় আইআই’এসটিতে অধ্যয়নরত শুভজিৎ বলেন, ‘ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক মাধ্যমে তার বোনকে টার্গেট করে একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। শিপ্রার ব্যক্তিগত চরিত্রহননের চেষ্টাও চলছে। শুধু ভু’য়া আইডি নয়, প্রশাসনের অনেকে নিজের আইডি থেকেও শিপ্রাকে আ’ক্রমণ করছে। সামাজিক মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আম’রা ম’র্মাহত।’

এদিকে মা’দকের মা’মলায় শিপ্রার কারামুক্তির পর সিনহার ‘জাস্ট গো’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে যে ভিডিওটি প্রকাশ হয়েছিল সেটি তিনি নিজেই ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিপ্রা।

তিনি বলেন, “সিনহা ভাই নি’হতের পর অনেকে নকল ডকুমেন্টরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে ‘জাস্ট গো’ নামে প্রচার করছিল। ভাবলাম আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই গুগল ড্রাইভে থাকা আসল ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করি সবাইকে জানাতে।”

‘যখন দেখলাম মানুষ এটা ভালো’ভাবে নেয়নি, তখন ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা ডিলিট করে দিয়েছি। অনেকে ধারণা করেছিল এটা আমা’র ব্যবসা ছিল, আবার অনেকে আমাকে ভু’ল বুঝেছিল। তাই তাদের সম্মান জানিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফে’লেছি’─ যোগ করেন শিপ্রা।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা বলেন, ‘আমি সাধারণ মে’য়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আমি অনেক হতাশ হয়েছি। আর সিনহা ভাই ও আমাদের স’ঙ্গে যা হয়েছে, জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তার বিচার দেখে যেতে চাই। প্রয়োজনে ন্যায় বিচারের স্বার্থে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অ’পেক্ষা করব।’

শিপ্রার ভাই শুভজিৎ বলেন, ‘জাস্ট গো ডকুমেন্টারিতে সিনহার মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েছেন শিপ্রা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ত অনেকেই তার হাসিমাখা মুখ ভালো’ভাবে নেয়নি। এমনকি একজন পু’লিশ সুপারও তার আইডি থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করেছে। এটা করার পেছনে অবশ্যই অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। হঠাৎ কেন তারা শিপ্রার ব্যক্তিগত বি’ষয় সামনে আনবেন? সত্যকে আড়াল করে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হিসেবেই তারা এমনটি করছেন বলে আম’রা মনে করছি।’

‘লাপাত্তা ল্যাপটপ-হার্ডডিস্ক থেকে ছবি ফাঁ’স হয় কী’ভাবে?’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়াকে ‘ব্যক্তির ম’র্যাদা ক্ষুন্ন করা’ বলে মনে করছেন মা’নবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

খোঁজ না-পাওয়া ল্যাপটপ-হার্ডডিস্ক থেকে কিভাবে এসব ফাঁ’স হয় তা নিয়ে প্রশ্ন রেখে রিয়াজুল বলেন, ‘যারা সোস্যাল মিডিয়ায় এসব প্রকাশ করছে এগুলো ঠিক না। কারণ কারও ব্যক্তিগত বি’ষয় নিয়ে এসব করা আইনবি’রোধী কাজ। প্রতিটা মানুষেরই তো প্রাইভেসি আছে।’

‘যারা ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক নিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে এসব ছবি ও ভিডিও কিভাবে ফাঁ’স হলো পু’লিশের অবশ্যই ত’দন্ত করে দেখা উচিত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা আজেবাজে কথা লিখছে, তাদেরকেও খুঁজে বের করে শা’স্তির আওতায় আনতে হবে’─ যোগ করেন মা’নবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।

কেবল শিপ্রার বেলায় না যে কোনও মানুষের ম’র্যাদা আছে উল্লেখ করে রিয়াজুল বলেন, ‘ব্যক্তির এই ম’র্যাদা ক্ষুন্ন করার অধিকার তো কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তারা অ’প’রাধ করছে। কম্পিউটার, হার্ডডিস্কের ত’থ্য বাইরে গেল কিভাবে সেটা স’রকারের উচিত ত’দন্ত করা। পু’লিশ যদি সেগুলো জ’ব্দ না করে তাহলে সেগুলো কোথায় গেল, কারা নিল, কিভাবে ছবি-ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে তা গুরুত্বের স’ঙ্গে ত’দন্ত করে দেখা উচিত।’

‘আম’রা জানতে পারছি, এসব ছবি-ভিডিও ওই কম্পিউটারে ছিল। যদি সেখানে থাকা ছবি-ভিডিও প্রকাশ হয় তাহলে পু’লিশকে শা’স্তির আওতায় আনতে হবে। কারণ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এসব ছবি-ভিডিও কম্পিউটারেই ছিল।’

তবে এত কিছুর পরও সিনহা হ’ত্যার সুষ্ঠু ত’দন্ত শেষে মূ’ল অ’প’রাধীদের শা’স্তির আওতায় আনা হবে বলেই আশাবা’দী কাজী রিয়াজুল হক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here