নির্বাচন বলতে বাংলাদেশে কিছু নেই : দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কেউ যদি মনে করেন যে নির্বাচন করে মুক্তি পাবেন, আমার মনে হয় না এটা সম্ভব হবে। কারণ এই সরকার নির্বাচন ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন বলতে বাংলাদেশে কিছু নেই। তাই রাস্তায় আন্দোলন করেই এই সরকারকে হটিয়ে মু‌ক্তি পে‌তে হ‌বে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কৃষক দলের উদ্যোগে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এত বেশি কৃষক দরদী যে ওনার চেয়ে কৃষক দরদী আর কোনো প্রেসি‌ডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী নেই। শহীদ জিয়ার প‌রেই বেগম খা‌লেদা জিয়া কৃষক‌দের‌ ভা‌লোবাসেন এবং সবসময়ই পা‌শে ছি‌লেন। কিন্তু বর্তমান সরকা‌রের দি‌কে তাকা‌লে তা ভিন্ন। কৃষক‌দের কোনো ব্যবস্থাই সরকার করে নাই। কৃষকরা ফসল হারা, তারপরও তারা অনবরত কাজ করে যাচ্ছে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।

তি‌নি ব‌লেন, সেই কৃষকদেরই সংগঠন হচ্ছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। এই কৃষক দলের মধ্য দিয়েই আমরা স্বপ্ন দেখি। এই কৃষক দলের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি। এই কৃষক দলের মধ্য দিয়েই দেশের সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখি। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় থাকলে সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারেন তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারেন তাহলে স্বাধীনতার অর্থ থাকবে। যদি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে চান, তাহলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ দায়িত্ব কৃষক দলকে নিতে হবে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আমরা এখানে স্লোগান দিচ্ছি। পরস্পর হাত মেলাচ্ছি সব ঠিক আছে। কিন্তু রাস্তায় নামা ছাড়া মুক্তি নাই। কেউ যদি মনে করেন নির্বাচন করে মুক্তি পাবেন আমার মনে হয় না এটা সম্ভব হবে। কারণ নির্বাচন শেষ করে দিয়েছে, ধ্বংস করে দিয়েছি। নির্বাচন বলতে বাংলাদেশ কিছু নেই। রাস্তায় আন্দোলন করেই এই সরকারকে হঠাতে হবে।

এই সরকার তারেক রহমানকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় মন্তব্য করে কৃষকদলের আহবায়ক বলেন, তারেক রহমানকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় এই সরকার ও শেখ হাসিনা। যে মানুষটা একটা নির্বাচনও করে নাই, তার বিরুদ্ধে এমন কোনো মিথ্যা অপবাদ নাই এই শেখ হাসিনা দেয় নাই। তাই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। সে যদি দেশে ফিরে না আসে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবেনা। সেইজন্যে আমাদেরকে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতি মানে সংগঠন, সংগঠন মানে রাস্তা, রাস্তা মানে আন্দোলন। সেই আন্দোলনে আমাদের করতে হবে।

কৃষকদলের কেন্দ্রীয় আহ্বয়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*