শিশু বয়সে নিখোঁজ, বৃদ্ধ বয়সে বাড়ি ফেরা

বাবার সঙ্গে ট্রেনে ওঠে ১০ বছরের মোস্তুফা। ময়মন’সিংহের গফরগাঁও রেল স্টেশন থেকে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলো তারা। অসুস্থ মোস্তুফাকে ট্রেনে রেখে কিছু একটা কিন’তে বাবা আজিম উদ্দিন স্টেশনে নামেন। বাবা ওঠার আগেই ছেড়ে দেয় ট্রেন। লোকজন মোস্তুফাকে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টে’শনে না’মিয়ে দেয়। বাবাকে হারিয়ে অসুস্থ মোস্তুফা একটি চায়ের দোকানে বসে কাঁদছিল। সেখান থেকে সিরাজ উদ্দিন না’মের স্থানীয় এক রি’কশা গেরে’জের মালিক তাকে বাড়ি নিয়ে যান। চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তাকে বাড়িতেই রেখে দেন তিনি। ৫৫ বছর আগে ১৯৬৫ ‘সালের দিকে ঘটে এমন ঘটনা।

৫৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই মোস্তফা ফিরে এসেছেন নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজে’লার জাংগা’লিয়া ইউনি’য়নের দগদগা গ্রামে। সঙ্গে এসে’ছেন স্ত্রী সোহা’গী বেগম এবং তিন সন্তান। গত শু’ক্রবার বাড়ি ফিরে আর বাবা-মায়ের দেখা পাননি মোস্তফা। ছোটভাই আব্দুল আউয়াল তাকে সনাক্ত করেন।

মোস্তুফা পরিবার নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রহমান কনোনীতে থাকেন। মোস্তুফা বর্তমানে তিন সন্তানের পিতা। তাঁর বড় ছেলে সজিব হোসেন একটি ক’ম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম সুরুজ ব্যবসা করেন। মেয়ে সুমনা অবিবাহিতা। গত চার বছর আগে তিনি হৃদ’রোগে আক্রান্ত হন। এতে প্যারালাইজড হয়ে অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন তিনি। তিন মাস আগে তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মনে পড়তে থাকে। স্ত্রী সোহাগীকে ডেকে এসব কথা বলেন তিনি। মোস্তুফা তার বাবা-মা-ভাই-বোনে’র না’ম বলতে পারছিলেন না। তবে তার আসল বাড়ি জাং’গালিয়ার’ দগদগা গ্রামে হতে পারে বলে জানান তিনি। এই ঠিকানা’ লিখে’ রাখে মেয়ে সুমনা। পরে ছোট ছে’লে গুগলে সার্চ দিয়ে বাবার জন্মস্থান খুঁজে বের করেন। গুগলের মাধ্যমে দগদগা গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন সুরুজ।

মোবাইলে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাবার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলে বলেন তিনি। পরে তার ফেসবুকে বাবার ছবি পাঠান। তার তথ্যের ভিত্তিতে দগদগা গ্রামে মোস্তুফার বাবার বাড়ি খুঁজে বের করেন ওই ব্যবসায়ী। মোস্তফার ছবি দেখে বড় ভাইকে সনাক্ত করেন ছোট ভাই আব্দুল আউয়াল। তখনই ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হয় মোস্তুফাকে।এ বিষয়ে জানতে গোলাম মোস্তুফাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে গফরগাঁও রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন, শুধু এটুকু বলতে পেরেছেন তিনি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*