ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্সের’ সন্ধান মিলেছে

৬২ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ হওয়া বিমানের ব্ল্যাক বক্স রেকর্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক প্রধান জাহজান্তো৷ তিনি বলেন, দ্রুতই সেটি পুনরুদ্ধার করা হবে৷ যদিও নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা বলেননি তিনি৷

আজ (১০ জানুয়ারি) সকালে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সামরিক নৌযান প্লেনটি থেকে সংকেত পায়৷ ডুবুরিরা সমুদ্রের ৭৫ ফুট নিচ থেকে কিছু ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করেছেন৷ খুঁজে পেয়েছেন মানুষের শরীরে অংশবিশেষ আর কাপড়৷

এর আগে ইন্দোনেশিয়া বলছে, তারা দুর্ঘটনার স্থান খুঁজে পেয়েছেন। তারা ধারণা করছেন, বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি উড্ডয়নের চার মিনিটের মাথায় সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে বিমানের কোনো যাত্রীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।

জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র ইউসরি ইউনুস জানান, তল্লাশি ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার করেছেন। একটি ব্যাগের মধ্যে বিমানের কোন আরোহীর জিনিসপত্র ছিল এবং অপর একটি ব্যাগে কারও দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তারা বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সোলিহিন নামের এক জেলে জানিয়েছেন, আমার মনে হলো বিমানটিতে আগুন জ্বলছে এবং এরপরেই সেটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। এটা আমাদের একদম কাছেই ঘটেছে। যে স্থানে ওই বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তার কাছাকাছি একটি দ্বীপের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়েছেন। তাদের মনে হয়েছে এগুলো দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের।

শনিবার (০৯ জানুয়ারি) সুকর্নো-হাত্তা বিমানবন্দর থেকে পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পন্টিয়ানাক এর উদ্দেশ্যে প্লেনটি যাত্রা করে৷ বোয়িং ৭৩৭-৫০০ মডেলের বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ সে সময় এটি ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল৷

এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো৷ বিবৃতি দিয়েছে বিমানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংও৷ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে বলেও জানিয়েছে৷ এদিকে বিমানে আরোহীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দুইটি ক্রাইসিস সেন্টার খুলেছে কর্তৃপক্ষ৷ স্বজনদের খবরাখবর জানার জন্য তাদের অনেকেই এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছেন৷ যদিও সময় যত গড়াচ্ছে যাত্রীদের কারো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে৷

এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে শ্রিভিজয়া৷ সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর জেফারস আরউইন জানিয়েছেন, মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিমানটির সবকিছু স্বাভাবিক ও চলাচল উপযোগী ছিল৷ একইদিনে সেটি অভ্যন্তরীন আরো দুইটি রুটে চলাচল করেছে বলেও জানান তিনি৷ তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় পন্টিয়ানাক এর উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় উড্ডয়নে দেরি হয়েছিল৷

এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এনিয়ে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের দুইটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে৷ যদিও শনিবারের দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ২৭ বছরের পুরানো এবং বর্তমান প্রজন্মের ৭৩৭ ম্যাক্স-এর ত্রুটিপূর্ণ এমসিএএস সিস্টেম এতে ব্যবহার হয়নি৷

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*