এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করতে এবার বিশেষ পদ'ক্ষেপ নিলো প্রধানমন্ত্রী

প্রবাসীদের স'ঙ্গে ভদ্র ব্যবহার (শোভন আচরণ) শেখাতে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মী-স্টাফদের প্র'শিক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সেইনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সবেমাত্র বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সংস্থাগু'লোকে নিজ নিজ দফতরের কর্মক'র্তাদের প্র'শিক্ষণ দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়বি'ষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।সেই সভায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে ও বিদেশ গমনে দালালদের প্রভাব কমাতে বেশকিছু নির্দেশনা দেন তিনি।

প্রথম নির্দেশনাই ছিল-বিমানবন্দরে কর্মর'ত সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মী এবং স্টাফদের অ'ভি’বাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা ও তাদের প্রতি শোভন আচরণের বি'ষয়ে প্র'শিক্ষণ দিতে হবেজানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের প্র'শিক্ষণে তৎক্ষণাৎ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ১৬ মাস পর ৪ জানুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগু'লোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামর'িক বিমান চলাচল ক'র্তৃপক্ষ (বেবিচক), ইমিগ্রে'শন ও পাসপোর্ট অধিদ'প্ত র, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্র'শিক্ষণ ব্যুরোসহ (বিএমইটি) আরও বেশকিছু সংস্থাকে চিঠি দিয়ে ৩ দিনব্যাপী ‘বিশেষ’ প্র'শিক্ষণের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। একইস'ঙ্গে প্রতি মাসে প্র'শিক্ষণের হালনাগাদ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠি পাঠানো একাধিক দ'প্ত রে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এর আগে প্রবাসী মন্ত্রণালয় থেকে কর্মীদের প্র'শিক্ষণ-সংক্রা'ন্ত কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। এবারই প্রথম এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে।তাছাড়া শোভন আচরণ শেখাতে কী ধরনের প্র'শিক্ষণ দিতে হবে বা প্র'শিক্ষণ মডিউল কেমন হবে তার বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি।প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনকে ফোন করে এ বি'ষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে এসএমএস করে জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।অবশ্য মন্ত্রণালয়ের প্র'শিক্ষণ অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রা'প্ত একাধিক কর্মক'র্তা জানান, প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সচিব অভ্যন্তরীণ কর্মক'র্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনুবিভাগগু'লোর দায়িত্ব পুনঃবণ্টন করে দেন। প্র'শিক্ষণ অনুবিভাগকে প্র'শিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগে এ দায়িত্ব ছিল কল্যাণ শাখার। প্র'শিক্ষণ শাখা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সব দ'প্ত র ও মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মক'র্তারা বলেন, ভদ্র ব্যবহার বা শোভন আচরণ শেখাতে বিশেষ প্র'শিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশনার বি'ষয়ে তারা কিছুই জানেন না। কোনো সংস্থা থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া প্র'শিক্ষণ কীভাবে দেওয়া হবে, কী কী বি'ষয় শেখানো হবে তার গাইডলাইন থাকতে হবে। কারণ বিমানবন্দরে কর্মর'ত প্রত্যেক কাস্টমস কর্মক'র্তাকে প্রবাসীদের স'ঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

]প্রবাসীরা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কর্মক'র্তার বি’রু’'দ্ধে হ’য়া’রা’নির অ’ভি’যো’গ করলে ত’দ’ন্তসা’পে’ক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্স’পা’রেন্সি ইন্টা’রন্যা’শনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিমান’বন্দর ব্যবহারকারীদের ওপর গবেষণা চা’লি’য়ে প্রতিবেদন তৈরি করে টিআইবি গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। ওই প্রতিবেদনে হ’য়রা’নি ব’ন্ধে ১৩ দফা সুপারিশ করা হয়। টিআইবির গবেষণার তথ্যে উল্লেখ করা হয়, তদা’রকি ব্যবস্থার ঘাট’তির কারণে শাহ আমানত বিমানবন্দরে যাত্রী হ’য়রা’নি যেমন রয়েছে, তেমন নিয়মবহির্ভূ'ত অর্থ আ'দায় বিদ্যমান। বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে বোর্ডিং লা’উ’ঞ্জ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূ'ত অর্থ আ'দায় করা হয়।

প্রবেশ এবং প্রস্থানের সময় আনসার বা’হি’নীর সদস্যদের দ্বা’রা যাত্রী হ’য়রা’নির ঘ’টনা ঘ’টে। অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রে'শন কর্মীদের একাংশ ইমিগ্রে'শন প্রক্রিয়া সম্পন্নে যাত্রীদের সহায়তা করেন। কোনো কোনো যাত্রীর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের হ’য়রা’নি এবং অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। ভিসার মেয়াদ কম, ছবি ঠিক নেই-এসব অ’জুহা’তে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূ'ত অর্থ আ'দায় করা হয়। এছাড়া যাত্রীরা অনেক সময় অনুমোদিত মুদ্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ দেশি ও বিদেশি মুদ্রা বহন করেন।

এখতিয়ারবহির্ভূ'ত ভাবে অনেক সময় নি’রাপ’ত্তা কর্মীরাই তা যাত্রীদের কাছ থেকে কেড়ে নেন। শুল্ক বিভাগের কিছু কর্মক'র্তা-কর্মচারী অ’বৈ’ধ অর্থের বিনি’ময়ে নি’ষি’'দ্ধ পণ্য বা শর্তসা'পেক্ষে আম'দানিযোগ্য পণ্য বিশেষ করে টিভি, সোনার বার, মোবাইল ফোন সেট ও শাড়ি বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়ার সুযোগ করে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পণ্যের একাংশ নানা অজুহাতে রেখে দেয় তারা। এছাড়া বিমানবন্দ’র থেকে বের হয়েই প্রবাসীরা পড়েন সিএনজি’ ও মাই’ক্রো’বাস সি’ন্ডি’কে’টের কবলে। মনিটরিং না থাকায় তা’রাও সি”ন্ডিকে’ট করে প্রবাসীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আ'দায় করে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*