কুড়িগ্রামে কবর খুঁড়তেই ভেসে উঠলো আরবি হরফ, মানুষের ঢল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়ন

এক ব্যক্তির ক’বর খোঁ’ড়ার সময় আরবি হরফ সদৃশ ছাপ দৃশ্যমান হতে দেখা গেছে কবরের দুই পাশের মাটিতে। পশ্চিম পাশে বিসমিল্লাহ ও সূরা ইয়াছিনের কিছু অংশ এবং পূর্ব পাশে রয়েছে মিম হা মিম দাল (মোহাম্মদ)। এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম পানিমাছকুটি গ্রামে ওই ‘অলৌকিক’ ঘটনাটি ঘটতে দেখেছে বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।

এ খবর গ্রামে ছ’ড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি একনজর দেখার জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে। ভিড় জমে কব’রের চারপাশে। পরিস্থিতি নিয়’ন্ত্রণে আনতে মো’তায়ন করা হয় পুলিশ। জানা গেছে, ওই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বার আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক এনজিওতে চাকরিরত অবস্থায় গত বুধবার রাত ১০টার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হৃ’দরো’গে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান। বৃহস্পতিবার সকালে তার স্বজনেরা বাদ জহুর নিজ বাড়ির পারিবারিক কব’রস্থানে লা’শ দা’ফ’নের জন্য প্রস্তুতি নেন।

স্থানীয় আব্দুল বারী ও আমির হোসেন ক’বর খোঁ’ড়া শুরু করলে ক’বরের দুই পাশের দেয়ালের অংশে বের হয়ে আসে আরবি অ’ক্ষর সদৃশ ছাপ। তারা জানান, ক’বরের বেশিরভাগ বালুমাটি ছিল। বিষয়টি প্রথমে তারা দেখে চমকে যান। পরে ধা’রা’লো অ’স্ত্র (বেকি) দিয়ে তারা যতবার মাটি কা’টতে থাকেন ততবার আরবি হরফগুলো অ’স্পষ্ট না হয়ে আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কবরের দুই পাঁজরে পশ্চিমে বিসমিল্লাহ, সূরা ইয়াছিনের কিছু অংশ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন তারা। আর পূর্ব পাশে দেখা যায় মিম হা মিম দাল (মোহাম্মদ) লেখা নাম।

মৃতের বড় ভাই ইব্রাহিম আলী জানান, ‘আমার ছোট ভাই ছোটবেলা থেকে নামাজি ছিল। আমার জানামতে বেঁচে থাকা অবস্থায় সে কোনোদিন মি’থ্যা কথা বলেনি।’বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মমিনুল ইসলাম জানান, ‘কব’রে আরবি অক্ষর আমার জীবনে দেখিনি। এ দৃশ্য প্রথম দেখলাম। এটা মহান আল্লাহর অ’লৌ’কিক শক্তির নমুনা।’ নন্দিরকুটি চৌপথী জামে মসজিদের ইমাম ও বড়লই এলাকার হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক জানান, ‘আমরা নিজেরা লেখাগুলো পড়েছি। এটা আল্লাহ প্রদত্ত।’

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থ’লে পাঠানো হয়েছে। লা’শ দ্রু’ত দা’ফন করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে অবগত করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় বিজ্ঞজনেরা বলছেন, মাটির নিচে ভেজা বালু অনেক সময় নানা আ’কার নেয়। মাটির চাপে ও আ’র্দ্রতাজ’নিত কারণে এমনটা হয়ে থাকে। গ্রামবাসীর কাছে লেখাগুলো আরবি হর’ফের মতো দেখাচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*