জানালা দিয়ে কোপানোর দৃশ্য দেখলেও কিছুই করার ছিলো না প্রতিবেশীদের

শনিবার দুপুর একটা। ২৫৩/৩ নাখালপাড়ার একটি ভবনের তৃতীয় তলার কক্ষের জানালার দিকে উদ্বেগ আর আর উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছেন আশপাশের প্রতিবেশীরা।

ভেতরের খাটের উপর একটি মেয়ের মরদেহ। অপর একজন নারীকে দা দিয়ে কোপাচ্ছেন যুবক। কিন্তু উপস্থিত দর্শকরা এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখলেও কিছুই করার ছিলো না তাদের।

পরে তারা ভবনমালিককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। নিচেও আশপাশের লোকজন জড়ো হন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘাতক রনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।

পরে স্থানীয়রা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন ইয়াসমিনের নিথর দেহ পড়ে আছে মেঝেতে। খবর পেয়ে পুলিশ রনি নামের ওই যুবককে আটক করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন রনি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।

নিহতরা হলেন রনির স্ত্রী ইয়াসমিন আক্কাস (২৮) ও শ্যালিকা সিমু (১৭)। ইয়াসমিন পোশাককর্মী আর সিমু সম্প্রতি নাবিস্কো এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের বাড়ি নরসিংদীতে আর ঘাতক রনির বাড়ি জামালপুরে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, আটক রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, রনি প্রথমে শ্যালিকাকে হত্যা করে খাটে শুইয়ে রাখে। স্ত্রী ঘরে ফিরলে তাকেও হত্যা করে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রনি মিয়াকে আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা চলছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*