দুর্নীতির টাকায় কানাডায় বিলাসী জীবন!

.মনজুরুল হান্নান খানের গোটা পরিবার ঘুষ আর দুর্নীতির টাকায় বেগম পাড়ায় বিলাসী আয়েশি জীবন-যাপন করেছেন।কানাডায় ব্যাপক আলোচিত বিষয়টি ।

২০০৯ সালের জুলাই মাসে দেশে বায়ু দূষণ বন্ধে সরকার (CLEAN AIR AND SUSTAINABLE ENVIROMENT) প্রকল্প চালু করে। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ু দূষণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা।ড: মনজুরুল হান্নান খান এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হয়েছিলেন ।বায়ু দূষণ বন্ধ করতে পারেননি ঢাকায় তিনি। বায়ু দূষণ কতটা প্রাণঘাতি তা ঠিকই অনুভব করেছিলেন।

এজন্য গোটা পরিবারকে বায়ু দূষণ থেকে রক্ষায় পাঠিয়ে দেন কানাডার টরন্টোর বেগম পাড়াতে।ড: মনজুরুল হান্নান খান ৮৫ ব্যাচের এখন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরের প্রহর গুনছেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে ওএসডি এবং তার স্ত্রী কানাডায় ইমিগ্রান্ট। তার এক ছেলে এক মেয়ে কানাডায় পড়াশুনা করে। তিনি সুযোগ পেলে অবসর সময় কাটাতে কানাডায় যান। সরকারও তাকে ছুটি দেয়। গত বছরের মার্চে সর্বশেষ ছুটি পেয়েছিলেন । সরকার তার ছুটি মনজুর সংক্রান্ত অনুমোদন আদেশে লিখেছে বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য ১৫ দিন কানাডা থাকবেন।

ড: মনজুরুল দাবী করেন, নিজস্ব কোন বাড়ী নেই কানাডায় তার , কিন্তু সরকারের সংগৃহীত তথ্যমতে সেখানে তার স্ত্রীর নামে একটি এপার্টমেন্ট ও বেনামে আরো দুটি এপার্টমেন্ট রয়েছে বলে জানা যায়। ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা হয়েও তিনি সচিব না হতে পারার অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি।

প্রকল্পের পরিচালক থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।কেস প্রকল্প ছাড়াও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তবে কোন অভিযোগই শেষ পর্যন্ত তদন্ত চলেনি।ড: মনজুরের ভাষ্যমতে ’তিনি কানাডায় যাওয়া আসার মধ্যে থাকে’। আসলেই তো বাংলাদেশে উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা। তাছাড়া একজন অতিরিক্ত সচিবের স্ত্রী চাইলেই উড়ে যেতে পারেন কানাডায়! কিভাবে? রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতেই পারে, নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠতে দেখা যায় অতিউৎসাহীদের কিন্তু এসব আমলাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা?বর্তমান সময়ে কানাডার টরন্টোর বেগমপাড়া ব্যাপক আলোচিত। দিন দিন বেগম পাড়া যেন সরকারী বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী বসতী হয়ে উঠেছে। ভুলভাল বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এবং সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে এই সকল দুর্নীতিগ্রস্থ আমলারা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে। পরবর্তীতে নিজেরা বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাড়ী,গাড়ি কিনে অতি বিলাসিতায় জীবন-যাপন করছেন ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*