ধ’র্ষ’ণ বন্ধে ধ'র্মের বয়ান

আজকাল পত্রিকার পাতা খুললেই যে বি'ষয়টি ভাবিয়ে তোলে সেটি হল ধ’র্ষ’ণ। যেখানে শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না।আর ধ’র্ষ’কদের অধিকাংশের বয়স বিশ থেকে ত্রিশের কোঠায়। এক কথায় বলা চলে, আমা'দের দেশের কিছু তরুণ বিশ্বের এ ক্রা'’ন্তিল’'গ্নে ধ’র্ষ’ণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ধ’র্ষ’ণ ব’ন্ধে আমা'দের করণীয়-

ধ’র্ষ’ণ বন্ধে শালীন পোশাক : বর্তমান সমাজে নারী-পুরুষ সবার পোশাকেই শালীনতা আনতে হবে। পুরুষ নারীর বেশে কিংবা নারী পুরুষের পোশাক পরা যাব'ে না। এখানে ইসলাম ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নষ্ট করেনি বরং অ’শ্লী’লতাকে নিষে'ধ করেছে। সমাজের নারী-পুরুষ আজ পা’তলা ও আঁ’টোসাঁ’টো পোশাকের মহড়া দিচ্ছে; যা তরুণ-তরুণীদের অন্যায়ে উ’দ্বু’'দ্ধ করছে।

অথচ, জারির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, অনেক মানুষ পোশাক পরা অবস্থায় উল'ঙ্গ থাকেন, অর্থাৎ তার পোশাক পাতলা বা স্বচ্ছ হওয়ায় ‘সতর’ আবৃত হয় না (মাজমাউয যাওয়াইদ:৫/১৩৬)। সংযত দৃষ্টি : নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই চোখ নামিয়ে রাখার বিধান পবিত্র কোরআনে দেয়া হয়েছে। আমর'া তা থেকে দূরে গিয়ে বরং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আ'ঙ্গিনায় আমা'দের বোনদের উ’ত্ত্য’ক্ত করার জন্য দলবেঁধে ও’তপেতে বসে থাকি।

তরুণদের ন’'গ্ন থাবা তরুণীদের অসহায় করে তোলে, ফলে ব্য’ভি’চার হয়। অথচ আল্লা'হতায়ালা বলেন, (হে নবী) মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌ'’না’'ঙ্গের হেফাজত করে ….. আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌ'’না’'ঙ্গের হেফাজত করে (সূরা আন-নূর: ৩০-৩১)। ঠিক সময়ে বিবাহ : আমা'দের সমাজ আজ বেকারত্বের অজুহাতে বিবাহকে কঠিন করে ফেলেছে; আর ব্য’ভিচার, প'রকীয়া এমনকি ধ’র্ষণকেও বৈ’ধতা দিয়েছে।

বাবা-মায়ের উচিত, সন্তান প্রা'প্ত বয়সে পড়লে তাকে বিবাহ দেয়া। বিবাহ শিক্ষা বা চাকরির জন্য অন্তরায় হয় না বরং নিরাপ'দ হয়। বিবাহ প্রথা কঠিন হওয়ায় সমাজের তরুণ-তরুণীরা আজ অ’বৈধ ভালোবাসায় জড়াচ্ছে। অথচ ঠিক সময়ে বিবাহ হলে সমস্যাগু'লো সমাধান সহজ হয়ে যেত।পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, তোমা'দের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও ….. তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন (সূরা আন-নূর : ৩২)।

ব্য’ভি’চারকে না বলুন : বিবাহবহির্ভূ'ত উভয়ের সম্মতিতে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে জে’না। কিন্তু প’র’কীয়ার মাধ্যমে দৈহিক সম্পর্ক হচ্ছে ব্য’ভিচা’র; আর বলপ্রয়োগ কিংবা অ’স্ত্রের ভ’য় দেখিয়ে দৈ’হিক সম্পর্ক হচ্ছে ধ’র্ষ’ণ। আমা'দের সমাজে আজ সবই মহা'মা'রী আকার ধারণ করছে। এ থেকে বাঁচতে আল কোরআনের ছায়াতলে আসতে হবে। বলা হয়েছে, তোমর'া ব্য’ভি’চারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অ’’শ্লী'ল কাজ এবং ম’ন্দ পথ (আল-ইসরা : ৩২)।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : যারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদের হ’ত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদগু'লো বিপরীত দিক থেকে কে'টে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব শাস্তি আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি (আল-মায়িদাহ : ৩৩)।

নৈতিক শিক্ষায় গু'রুত্ব দিন : স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চরিত্র অবক্ষয় রোধে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বি'ষয়ে পাঠদান ও এর গু'রুত্ব বাড়াতে হবে। সম্ভব হলে বিজ্ঞান বি'ষয়ের মতো নৈতিক শিক্ষায়ও ২০-২৫ নম্বরের ব্যবহারিক নম্বর থাকতে পারে। তবেই আমা'দের তরুণ সমাজ ধ”র্ষণের ভ’য়া’ব’'হতা ও এর শা’স্তি সম্পর্কে জানবে এবং নারীদের সম্মান দিতে শিখবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, (ধ'র্মীয় আবশ্যিক) জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ (সুনানু ইবনে মাজাহ : ২২৪)। লেখক : এমফিল গবেষক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*