পুলিশ বক্সে নেই টয়লেট, ভোগান্তি এড়াতে ঠিকমতো পানিও খান না তারা!

রাজধানীর অনেক ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নেই টয়লেট। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত দারুণ অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে নারী ট্রাফিক পুলিশদের। দীর্ঘদিনেও এর সমাধান না পেয়ে 'হতাশ তারা। এমনকি টয়লেটে যেন কম যেতে হয় সেজন্য হাড়ভাঙা ডিউটিতেও পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন অনেকে!প্রতিদিন দুই শিফটের ডিউটি। এমনিতে একটুখানি বিরতি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিরতি নিতে গেলেই লেগে যায় যানজট। কিন্তু টয়লেটে তো যেতেই হবে। এর জন্য যদি আবার টয়লেটটা খুঁজে বের করতে হয় বা লাইন ধরতে হয়, তবে বিড়ম্বনা ষোলোআনা।ট্রাফিকের ঊর্ধ্বতন ক'র্তৃপক্ষ বলছে, টয়লেট সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোশেনের স'ঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই একটা সমাধান আসবে।

জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপিতে ১৩২৫ জন নারী পুলিশ কাজ করেন। এরমধ্যে রাজধানীতে ৩৫ জন নারী সার্জেন্ট কাজ করেন। সার্জেন্টেদের পাশাপাশি সড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নারী কনস্টেবলরাও দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৭ থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুই শিফটে কাজ করেন তারা।ডিএমপির ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শাহেদ আলম মাসুদ বলেন, সাধারণত যেসব এলাকায় যানবাহন চলাচল কম সেখানে দুই শিফটে ট্রাফিক সদস্যরা কাজ করে। যানবাহন বেশি চললে তিন শিফট আছে। শিফটগু'লো সকাল ৭ থেকে শুরু হয় দুপুর ২টায় শেষ হয়। দুপুরে যেটা শুরু হয় সেটা রাত ১০ টায় শেষ হয়। এরপর রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা। দুই শিফট হলে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা। আর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।

নারী ট্রাফিক পুলিশরা বলছেন, টানা আট' ঘণ্টা দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশদের কমপক্ষে দুইবার টয়লেটে (ওয়াশরুম) যেতেই হয়। কিন্তু দুয়েকটি ছাড়া আর কোনও ট্রাফিক পুলিশ বক্সে টয়েলেট নেই। বাধ্য হয়ে ডিউটি স্থানের আশপাশের হাসপাতাল, মা'র্কে'টের ওয়াশরুম খুঁজে বের করতে হয় আমা'দের। এদিকে রাত ৮টার পর মা'র্কেটগু'লো বন্ধ হয়ে যায়। তখন বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেকে টয়লেটে যাওয়ার ভয়ে দায়িত্ব পালনকালে ঠিকমতো পানিও খান না।নারী পুলিশরা আরও বলেছেন, মাসের নির্ধারিত কয়েকটি দিন নারীদের ঋতু চলাকালে হাসপাতাল বা অন্য কোনও জায়গার টয়লেট ব্যবহার করা অস্বস্তিকর। তাই নারীদের জন্য পুলিশ বক্সে আলাদা টয়লেট স্থাপন জরুরি।

রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনে সার্জেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ইসমত তারা। ২০১৫ সালে পুলিশে যোগ দেন তিনি। শিশুমেলার সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা যায় সড়কের যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজের পাশাপাশি শারীরিক প্রতিব'ন্ধী দের রাস্তা পারাপার এবং গাড়িতে উঠতেও সাহায্য করছেন তিনি।ইসমত তারা বলেন, আমা'দের নিজস্ব টয়লেট না থাকায় ডিউটি পালনকালে আশপাশের হাসপাতাল বা ব্যাংকের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়। তখন ওইসব জায়গার লোকজনের কাছে যখন ওয়াশরুম কোথায় জানতে চাই, তখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি।তিনি বলেন, এখানে দায়িত্ব পালনকালে রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুমেলার টয়লেট ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু ৮টার পর শিশুমেলা বন্ধ হয়ে গেলে আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। এই ভয়ে অনেক সময় পানিও খাই না।

ট্রাফিক পুলিশের নির্ধারিত ওয়াশরুম থাকার প্রয়োজনীতার কথা তুলে ধরে ইসমত তারা বলেন, নির্ধারিত কিছু ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিজস্ব টয়লেটের ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাহলে ডিউটি স্থানের আশপাশে যেখানে টয়লেট ব্যবস্থা থাকবে আমর'া সেখানে গিয়েও ব্যবহার করতে পারবো। আসলে ওয়াশরুম নিয়ে শুধু নারীরা নন, আমা'দের পুরুষ সহকর্মীরাও ভোগেন।

রাজধানীর ওয়ারীতে কথা হয় নারী সার্জেন্ট তানজিলার স'ঙ্গে। তানজিলা বলেন, টয়লেটের ব্যবহার নিয়ে শুরুতে ভোগান্তিতে বেশি পড়লেও এখন মানিয়ে নিয়েছি। এইখানে ডিউটি থাকলে পাশের হাসপাতালের ওয়াশরুম ব্যবহার করি। হাসপাতালের কর্মীরাও খুব ভালো ব্যবহার করেন।টয়লেট সমস্যা ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে অন্য কোনও সমস্যায় পড়তে হয় না উল্লেখ করে তানজিলা বলেন, আমা'দের স্যারেরা খুব সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন রাস্তায় দাঁড়াই তখন বুঝতে পারি যে আশপাশের স্কুল, কলেজের মেয়েরা বেশ অনুপ্রাণিত হয়। তারা বিভিন্ন সময় এসে আমা'র স'ঙ্গে কথা বলে। নিজেদের ভালোলাগার বি'ষয়গু'লো শেয়ার করে।ধানমন্ডির ২৭ নম্বর মোড়ে দায়িত্বপালনকালে কথা হয় নারী সার্জেন্ট লিমা'র স'ঙ্গে। ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি বলেন, টয়লেটের সমস্যাটি এক-দুই দিনের নয়। চাকরিতে যোগদানের পর আমা'দের স্যারেরা জানতে চেয়েছিল রাস্তায় কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই আমর'া। তখনই টয়লেট ভোগান্তির বি'ষয়টি উঠে এসেছিল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*