ভিক্ষা করে সংসার চালায় শিশু রাহমিদা;

বাবা মানে মাথার ওপর বটগাছের ছায়া। শত কষ্ট সহ্য করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান বাবা। কিন্ত ভাগ্যের নির্মমপরিহাসে বাবা থাকলেও সেই ছায়াটি নেই শিশু রাহমিদা আক্তারের। পঙ্গু বাবার সঙ্গে ভিক্ষা করে ১০ বছরের এই শিশুটিকে নিজের ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। এভাবেই সে তার বড় বোনের পড়ালেখাও চালায়।যে শিশুটির এই বয়সে পুতুল খেলায় মগ্ন থাকার কথা তাকেই ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। রাহমিদার বাবা বসে থাকেন হুইল চেয়ারে। সারাদিন সেই হুইল চেয়ার সুনামগঞ্জ শহরের এখানে সেখানে ঠেলে ঠেলে ভিক্ষা করে সংসারের খরচ জোগায় শিশুটি।

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানী গ্রামের বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলাম (৩৩)। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সাজানো সংসার ছিল তার। দিনমজুরের কাজ করে চলত সংসার।২০১৭ সালে জমিতে কাজ করতে গিয়ে ডান পায়ের সামান্য কেটে যায় তার। সেই কাটা থেকে ঘটনার প্রায় একবছর পর, ২০১৮ সালে তার দুই পা ও এক হাতে পচন ধরতে থাকে। সে কারণে তার দুটি পা ও একটি হাত কেটে ফেলতে হয়।

এর পর থেকে তার সংসারে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। সেই অন্ধকার সংসারের হাল ধরতে হয়েছে ১০ বছরের শিশু রাহমিদাকে। সংসার চালানোর পাশাপাশি রাহমিদা আক্তার তার বড় বোন ফাহমিদা আক্তারকে পড়াশোনাও করাচ্ছে। বর্তমানে ফাহমিদা উজানীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রাহমিদার বাবা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আগে ভাবতাম ছেলেরা বুঝি বাবা-মাকে শেষ বয়সে দেখে। কিন্তু আমার সেই ধারণা ভুল হয়েছে। আমার দুটি পা ও একটি হাত হারিয়ে যখন বিছানায় পড়েছিলাম, না খেয়ে দিন পার করছিলাম, তখন

আমার মেয়ে আমাকে হুইল চেয়ারে নিয়ে ভিক্ষা করতে বেরিয়েছে। মেয়ে যখন প্রথম ভিক্ষা করার কথা বলে তখন তার কথা শুনে খুব কেঁদেছি, কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে। মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন সকাল সাতটায় ভিক্ষা করতে বের হই। সারাদিন বাবা-মেয়ে ভিক্ষা করে যে টাকা পাই, সেই টাকা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।

রাহমিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলে, আমার পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু পড়াশোনা করার মতো ভাগ্য আমার নেই। তবে আমার পড়াশোনার ভাগ্য না থাকলে কী হয়েছে, আমি আমার বড় বোনকে পড়ালেখা করাচ্ছি।শিশুটি আরও বলে, প্রতিদিন সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে বাবাকে নিয়ে আসতে হয় সুনামগঞ্জ শহরে। সারাদিন বাবার হুইল চেয়ার ঠেলে ভিক্ষা করতে হয়। অনেকে ভিক্ষা দেয় আবার অনেকে দেয় না। তারপরও সারাদিনে মানুষ যা দেয়, সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।

জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া জাগো নিউজকে জানান, আমরা অসহায় পঙ্গু তাজুল ইসলামের পরিবারটিকে সবধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। শিশু রাহমিদা ১০ বছর বয়সে যে ত্যাগ শিকার করছে, সেটা সত্যি প্রশংসনীয়। সেপ্রমাণ করে দিল, ছোট বলে কাউকে অবহেলা করতে নেই। যেহেতু করোনার জন্য বিদ্যালয় এখন বন্ধ আছে, বিদ্যালয় খুললে আমরা তাকে ভর্তি করে দিব।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*