মুসলিম হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূ'ত কে বিতাড়িত করেছিলেন ট্রাম্প, আবার ফিরলেন হোয়াইট হাউসে

মুসলিম হওয়ায় সাবেক মা'র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টি’মে টিকতে না পারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূ'ত রুমানা আহমেদ আবার হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। রুমানা ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া (ইউএসএজিম)-এর রিভিউ প্যানেলের সাত সদস্যের অংশ হয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

প্রতিবাদী রুমানা হিজাব পরায় ট্রাম্পের লোকজনের কাছে প্রায়ই অ’পদস্থ 'হতেন। তাকে কেউই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতেন না। ২০১৭ সালে পদত্যা’গে’র নেপথ্য এই কারণগু'লো জানিয়ে দ্য আট'লান্টিকে একটি কলাম লেখেন রুমানা। ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

তার বাবা ১৯৭৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মা দেশটিতে একটি দোকানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে নিজের উদ্যোগে একটি ডেকেয়ার সেন্টার চালু করেন। বাবা ব্যাংক অব আমেরিকায় লেটনাইট কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরে একটি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রমোশন পান। রুমানার বাবার স্বপ্ন ছিল পিএইচডি করবেন। কিন্তু ১৯৯৫ সালে তার সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সড়ক দু’র্ঘ’ট’নায় একটি গাড়ি তার বাবার প্রাণ নিয়ে নেয়!

রুমানা জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর সাবেক মা'র্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা'র প্রশাসনে যোগ দেন। ওবামা'র আমলে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কাজ করতে থাকেন। রুমানা তার সেই আলোচিত কলামে জানান, ওবামা ক্ষমতা ছাড়লে হোয়াইট হাউসে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। স'প্ত াহ পার 'হতে না 'হতে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমা'র কাজ ছিল দেশের সেবা করা। ওয়েস্ট উইংয়ে আমি ছিলাম একমাত্র হিজাবী। ওবামা প্রশাসন সব সময় আমাকে স্বাগত জানিয়েছে,’ রুমানা কলামে লিখেছেন, ‘অন্য মুসলিম'দের মতো ২০১৬ সালে আমিও ট্রাম্পের কাজকর্ম দেখতে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, দেশের জন্য তার প্রশাসনে আমা'র থাকা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আট'টা দিন টিকতে পেরেছিলাম।’

রুমানা বলেন ‘ট্রাম্প যখন সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষে'ধাজ্ঞা আরোপ করলেন, তখনই বুঝে যাই আমা'র আর সময় নেই। ভাবতে থাকি, এমন একটা প্রশাসনে কাজ করি, যারা আমাকে অধীনস্থ নাগরিক মনে করে, হু’ম’কি হিসেবে দেখে। আমি ১২ বছর বয়স থেকে হিজাব ব্যবহার শুরু করি। পরিবার আমাকে উৎসাহিত করলেও এটা আমা'র নিজেরই পছন্দ ছিল। এটা ছিল আমা'র বিশ্বা'সের, সত্তার এবং সহনশীলতার প্রতীক। রুমানা এত বঞ্চনা সহ্য করতে পারতেন বাবার শেখানো ইসলামিক বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে। তার বাবা বাংলায় বলতেন, ‘কেউ যখন তোমাকে ফেলে দেবে, উঠে দাঁড়াবে। দুহাত মেলে তাকে ভাই বলে ডাকবে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*