মোবাইল ফোনে পরিচয়, প্রবাসীর স্ত্রীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে খুন!

ইতালি প্রবাসী স্বামী ক’রো’নায় গৃহব’ন্দী। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না স্ত্রী। মাদারীপুরের সদর থানার দুধখালী গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন স্ত্রী স্বর্ণালী আক্তার। পাশের বল্লাইচর গ্রামে স্বর্ণালীর শ্বশুরবাড়ি। ২০১৭ সালে ইতালি প্রবাসী রোকন মোল্লার সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাস পর রোকন ইতালি চলে যান। ক’রো’না’র মধ্যে ইতা’লি ল’কডা’উনে চলে যাওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে স্বর্ণালীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এরই মধ্যে মাদারীপুরের থানতলী গ্রামের সজীবের সঙ্গে স্বর্ণালীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। ইতালি প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে অনেক টাকা থাকতে পারে-এই ভেবে সজীব স্বর্ণালীর সঙ্গে প’রকী’য়া প্রে’মের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সজীব স্বর্ণালীকে জানায় যে সে ফরিদপুরে আবাসিক হো’টেলের ব্যবসা করে। কিন্তু তাদের মধ্যে সরাসরি দেখা হয়নি।

দেখা করার জন্য ফরিদপুরের পুরাতন বাস-স্ট্যান্ড সংলগ্ন রাজস্থান রয়েল হো’টেলে আসতে বলে। সেই অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর বিকালে স্বর্নালী তার মায়ের কাছে বলে যে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য স্বর্ণালী স্বর্ণালঙ্কার পড়েন। স্বর্ণালী শ্বশুরবাড়িতে না গিয়ে বাসে করে চলে যান ফরিদপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের রাজস্থান রয়েল হোটেলে। সেখানে ২০৭ নম্বর কক্ষে সজীবের সঙ্গে ওঠেন। পরদিন ওই ক’ক্ষের বি’ছানা থেকে স্বর্ণালীর লা’শ উ’দ্ধা’র করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নি’হ’তের বাবা শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় সজীবকে প্রধান আসা’মী করে একটি ‘হ’ত্যা’ মা’ম’লা দা’য়ের করেন। এখন মেয়ের খু’নি’কে গ্রে’ফতা’রের দাবিতে দ্বারে দ্বা’রে ঘুরছেন এই হতভা’গ্য বাবা। দুই মাসের বেশি সময় তদ’ন্ত করে ফরিদপুর পুলিশ আসা’মীকে গ্রে’ফতার করতে পারেনি। ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, লা’শ উ’দ্ধা’রের সময় স্বর্ণালীর গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, হাতের চুড়ি ও আংটি ছিল না। তার মোবাইল ফোনটিও উ’ধা’ও হয়ে যায়।

পুলিশ ধারণা করছে, স্বর্ণালীকে শ্বা’সরো’ধ করে ‘হ’ত্যা’র পর তার স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন নিয়ে পা’লিয়ে’ছে ঘা’ত’ক। সন্দে’হভাজন ঘাতক সজীবকে পুলিশ এখনও খুঁজে পায়নি। স্বর্ণালীর মোবাইল ফোনটিও উ’দ্ধা’র করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, লা’শের সু’রত’ল রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ধারণা করছি, মেয়েটিকে শ্বা’সরো’ধ করে ‘হ’ত্যা’ করা হয়েছে। তবে ময়না’তদ’ন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে আ’সেনি। স’ন্দে’হভাজন আসা’মী সজীবকে আ’ট’কের চেষ্টা চা’লানো হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে মাম’লাটি সিআ’ইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মা’ম’লার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর সিআইডি’র পরিদর্শক ইমরান আলম বলেন, সপ্তাহ দুইয়েক আগে মাম’লাটি তদ’ন্তের জন্য সিআইডিতে এসেছে। মা’মলা’র নথি অনুযায়ী নি’হ’তের খো’য়া যাওয়া মোবাইল ফোনের সিডিআর (কল ডিটেইলস রেকর্ড) চাওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনের কল যাচাই বাছাই করে সজীব সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

লা’শের ময়’নাত’দ’ন্ত রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ওই হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে উঠেছিলেন। নি’হ’তের সঙ্গে আ’সা’মীর পূর্ব পরিচয় ছিল। কিন্তু কি কারণে তাকে ‘হ’ত্যা করা হয়েছে-সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। নি’হ’তের বাবা শাহাদাত হোসেন অ’ভিযো’গ করেন, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন টা’র্গেট করেই সজীব তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ‘হ’ত্যা’ করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*