রাজপথে দেনা-পাওনার হিসাব হবে: সাঈদ খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে ডিএসসিসি’র সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে মামলা দুটি করা হয়।

মামলা হওয়ার পর বিকেল ৩টায় সাঈদ খোকন বলেন, তাপসের মানসম্মানের বাজারমূল্য কত? মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী পেলে জানতে পারব। আইনি মোকাবিলার পাশাপাশি রাজপথে দেনা-পাওনার হিসাব হবে, ইনশাআল্লাহ।

এর আগে শনিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কদম ফোয়ারার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেছিলেন, তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। এই টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি লাভ করেছেন এবং করছেন। অন্যদিকে অর্থের অভাবে করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মেয়র তাপস সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯, দ্বিতীয় ভাগের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৯ (২) (জ) অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলছেন। আমি তাকে বলব, রাঘববোয়ালের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুন। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিন।

সাঈদ খোকনের এমন আপত্তিকর বক্তব্যের জবাবে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়াটা সমীচীন মনে করি না।

স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন- এমন অভিযোগের জবাবে তাপস বলেন, এটা ওনার ব্যক্তিগত অভিমত। এটার কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

কর্মীদের বেতন দিতে না পারার বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র বলেন, এটা ভ্রান্ত কথা। এমন বক্তব্যের বাস্তবিক কোনো ভিত্তি নেই।’

সাঈদ খোকনের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আপনি দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় উল্টো আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, যদি কেউ উৎকোচ গ্রহণ করে, যদি কেউ ঘুষ গ্রহণ করে, যদি কেউ কোনো কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কমিশন–বাণিজ্য করে, যদি কেউ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে, বিল দেওয়ার জন্য কমিশন–বাণিজ্য করে, সরকারি প্রভাব কাজে লাগিয়ে কারও দিকে জিম্মি করে বা কোনো কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিছু অর্থ নিয়ে থাকে, অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে, সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়। যে অভিযোগ আনা হয়েছে, এটা কোনোভাবেই কোনো বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*