স্কুল ছাত্রীকে ধ.র্ষ”ণের পর হ’ত্যা, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’লেভেলের স্কুল ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিন ওরফে শাহনূরী (১৭) ধ-র্ষ-ণ পরবর্তী হ’ত্যার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে তারই সহপাঠীদের বি’রুদ্ধে। ঘট’নায় পর একে একে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় জ’ড়িতের সন্দেহে আনুশকাহর প্রেমিক ফারদিন ইফতেখার দিহানসহ চার অভিযুক্তকে আ’টক করেছে পু’লিশ। পু’লিশ বলছে নি’হ’তে’র প্রে’মিককে লক্ষ্যে রেখে বাকি তিনজনকে জি’জ্ঞাবাদের জন্য আ’টক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘ’টনাটি ঘটেছে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায়। ঘট’নার পর ওই ছাত্রীকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে গা’ড়িতে করে নিয়ে আসে অ’ভিযুক্তরা। পরে আনুশকাহ নূরের মৃ’ত্যু’র খবর জানতে পেরে হাসপাতালে উ’শৃঙ্খল আ’চারণ করে অ’ভিযুক্তরা। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় থা’নায় যো’গাযোগ করলে অ’ভিযুক্তদের আ’টক করে পু’লিশ।শাহনূরীর পরিবারের দাবি কলাবাগানের পান্থপথের ড’লফিন গ’লিতে ধ-র্ষ-ণে-র শি’কার হ’য়েছেন দশম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রী। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ডলফিন গ’লির পা’ন্থনিবাসের ভবনের ডি-২ ফ্লাটে থাকত ফারদিন ও তার পরিবার। কথা হয় ওই বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী মাহ’বুবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি দুপুরে ডিউটিতে ছিলাম না। দুলাল নামে একজন ছিল।

সে প’লাতক, ফোন বন্ধ। ফার’দিন ভালো ছেলে। নিচে বাইক রা’খতো। বাড়িতে মাঝে মাঝে বন্ধুরা আসতো। তবে মে’য়ে নিয়ে কোনদিন আসতে দেখেননি।’ তবে, যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অ’ভিযুক্ত ফারদিনের মা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। জানা যায়, ফারদিনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মাঝে মধ্যেই বাড়িতে থাকতেন না তারা। ঘ’টনার স’ময়ও পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না।পাশের ফ্লাটের একজন নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ঘ’টনার সময় বাসায় কেউ ছিলনা। আমাদের সঙ্গে তাদের বেশি যোগাযোগ ছিলনা। হয়তো ওই ছেলে-মেয়ের রি’লেশন ছিল। এ বিষয়ে নি’হ’ত শিক্ষার্থীর বোনজামাই শরীফ গণমাধ্যমকে বলেন, আনুশকাহ সম্পর্কে আমার চাচাতো শ্যা’লিকা। এ বছর মাস্টারমাইন্ড স্কুল থেকে ও-লেভেল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটার দিকে কলাবাগানের ডলফিন গ’লিতে কো’চিং করতে গেলে এ সময় তার এক বান্ধবী মিথ্যা কথা বলে একটি বাসায় নিয়ে যায়। এ সময় ওই বাসাতে চারজন মিলে তাকে ধ-র্ষ-ণ ক’রে। যখন প্র’চন্ড র’ক্তপা’ত শু’রু হয় তখন ধ-র্ষ-ণে অ-ভিযুক্ত প্রে’মিক ফারদিন ইফতেখার দিহান তাকে ধা’নমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।পরবর্তীতে বিকাল পাঁচটায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যায়। ম’রদে’হ ব’র্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম’র্গে র’য়েছে। এ বিষয়ে আমরা মা’ম’লা করেছি। তিনি বলেন, নি’হ’ত শি’ক্ষার্থীর মা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন। বাবা ব্যবসায়ী। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে ছিল বড়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন।

নি’হ’ত শি’ক্ষার্থীর মা জানান, আমার মেয়েকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ও আমাকে যখন ফোন করে জানিয়েছিল তখন আমি অফিসে ছিলাম। আমাকে জানায়, মা আমি ক্লাসের ওয়ার্কসিট আনতে যাচ্ছি। এই বলে গেছে। দুপুর একটার পরে একটি ছেলে মুঠোফোন থেকে ফোন দিয়ে জানায়, আমার মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে।ওকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। আপনারা আসেন। পরবর্তীতে গিয়ে দেখি মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। ওকে হাসপাতালেই আনা হয়েছে মৃ’ত। ওই ছাত্রীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, ঘটনায় জ’ড়িতরা প্র’ভাবশালী হওয়ায় থা’না থেকে তাদের ছা’ড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সহপাঠীরা তাকে গ্রুপ স্টাডির কথা বলে ডেকে নিয়েছিল।

কিশোরীর চাচা বলেন, ‘সকালে এক বান্ধবীর জন্মদিনের কথা বলে অন্য এক বান্ধবী তাকে কলাবাগানের এক বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার বন্ধুরা তাকে শা’রী-রি’ক নি’র্যাত’ন করে। একপর্যায়ে তারা তাকে হ’ত্যা করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে পু’লিশকে সঙ্গে নি’য়ে ম’রদে’হ উ’দ্ধার করা হয়। লা’শ এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে আ’ছে।’

ওই ছাত্রীর শ’রীর থেকে প্র’চুর র’ক্তক্ষ’রণ হ’য়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, ধ-র্ষ-ণে-র পর র’ক্তক্ষ’রণে ভ’য় পেয়ে অ’ভিযুক্ত চারজন ছাত্রীকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর ওই ছাত্রীর মৃ’ত্যু হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পু’লিশকে খবর দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব’র্তমানে ওই ছাত্রীর ম’রদে’হ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ম’র্গে রাখা হয়েছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই কিশোরীর ম’রদে’হ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ম’র্গে নি’য়ে যান কলাবাগান থা’না পু’লিশের একজন কনস্টেবল। তবে ঘট’নার বি’স্তারিত জানাননি ওই পুলিশ সদস্য।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধ-র্ষ-ণে-র শি’কার হওয়ার পর আনুশকাহ শ’রীর থেকে অ’তিরিক্ত র’ক্তক্ষ’রণ হ’চ্ছিল। তার পে’টের ডান পাশে আ’ঘা’তের চি’হ্ন ছিল। পরে কলাবাগান থা’না পু’লিশ লা’শ উ’দ্ধার করে ম’য়না’ত’দন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ম’র্গে পাঠায়।

কলাবাগান থা’নার পু’লিশ প’রিদর্শক (ত’দন্ত) আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এক শিক্ষার্থীকে ধ-র্ষ-ণে-র পর হ’ত্যার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘ’টনায় মা’ম’লার প্রস্তু’তি চলছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কলাবাগান থা’নার এসআই মো. রুম্মন বলেন, এ ঘটনায় মূল অ’ভিযুক্তদের গ্রে’প্তার করা হয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে রা’খা হয়েছে। মা’ম’লার প্রস্তুতি চলছে। ডিএমপির নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার আবুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধ-র্ষ-ণে-র আ’লামত পাওয়া গেছে। এছাড়া দিহা’নের বাসা থেকেও উদ্ধার হওয়া আ’লামতে ধ-র্ষ-ণে-র প্র’মাণ পাওয়া গেছে। এ ঘ’নায় দিহানকে আ’টক করা হয়েছে। সেইসাথে আরো তিনজনকে জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য আ’টক করা হয়েছে। এ ঘ’টনায় মা’ম’লা দা’য়েরের প্র’স্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পু’লিশের র’মনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে আমরা তার লা’শ উ’দ্ধার ক’রেছি। তাকে হাসপাতালে আনার পর কর্তৃপক্ষ মৃ’ত ঘোষণা করে। তবে ভর্তি করা হয়নি। তাকে নিয়ে আসে বন্ধু দিহান, যাকে আমরা আ’টক করি। পর’বর্তীতে হাসপাতালে তার আরও তিন বন্ধু আসে।

তাদেরকে জি’জ্ঞাসাবাদের জন্য আ’মাদের হেফাজতে রেখেছি। কলাবাগান থা’নার পরিদর্শক (অপারেশন্স) ঠাকুর দাস গণমাধ্যমকে জানান, ওই ছাত্রীর বাসা ধানমন্ডির সোবহানবাগে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই ছাত্রী তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।কলাবাগানের ডলফিন গ’লিতে দি’হানের বাসায় যায় ওই ছাত্রী। দিহানের বাসা তখন ফাকা ছিল। সেখানে ওই ছাত্রী ধ-র্ষ-ণে-র শি’কার হওয়ার পর অ’সুস্থ হয়ে পড়’লে দিহান তার তিন বন্ধুকে ফো’ন করে ডে’কে আনে। পরে তারা অসুস্থ ছাত্রীকে চি’কিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বিকালে তার মৃ’ত্যু হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*