আমার মুখ বন্ধ করতে ওবায়দুল কাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে: দাবি কাদের মির্জা

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমার মুখ বন্ধ করার জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেব ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘রাসেল নামে একজন আছে, ঢাকায় ধান্দা করে খায়, তাকে দিয়ে আমাকে ধমক দিয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমাকে ধমক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে আমাকে ধমক দেওয়া হয়েছে, যেন এই সংবাদ সম্মেলন না করি।’

রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নোয়াখালীতে অন্যায়, অনিয়ম, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার পর আপনার ঘোষিত যেসব কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন, সেগুলো আবার দেবেন কিনা’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মির্জা কাদের বলেন, ‘শুনতেছি আওয়ামী লীগের একটা মিটিং হবে। আমি সেই মিটিং পর্যন্ত দেখব। যদি এগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে পরবর্তীতে আপনারাই সব দেখবেন। আমি কখনো এখান থেকে সরব না। আমি কোনো পদ-পদবিকে হাজির-নাজির মানব না। এগুলো আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করব। আমি এগুলোর সঙ্গে নেই।’

মির্জা কাদের বলেন, ‘আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সন্তান! ১৯৭১ সালে ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাদের এলাকার মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। আমি তখন ছোট ছিলাম, ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমি আমার স্কুল থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম। বেত্রাঘাত করে আমাকে স্কুলছাড়া করেছিল। আর এখন বলে আমরা নাকি রাজাকার পরিবারের সদস্য! এতো বছর এই দলের পিছনে সময় দিয়েছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আজ অনেক কষ্ট লাগে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ রাজাকার ছিল? আপনারা তদন্ত করে দেখেন। ওবায়দুল কাদের তার ক্ষমতার জন্য নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারে কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ করছি, তারা যদি প্রমাণ করতে পারে আমার পরিবার রাজাকার তাহলে আমি নিজের বুকে গুলি করে জীবন বিসর্জন দেব।’

মির্জা কাদের বলেন, আমার পরিবারকে হত্যা ও আমাদের বাড়িঘর উচ্ছেদ করার জন্য নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন। আমি বসুরহাট থেকে সন্ধ্যায় বের হয়ে যাবার সময়। সেদিন সেখানে আমার গাড়ি বহরে হামলা করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত ওদের হামলা থেকে আমার জীবন রক্ষা পেয়েছে।

এ ঘটনায় আমি ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিচার চেয়েছিলাম। ওবায়দুল কাদের আমাকে ফোন করে শান্ত থাকতে বলেছিলেন। আমি হরতাল ধর্মঘটের কর্মসূচি দিয়েছিলাম। তার কথাতে সেগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা পিপড়াও ধরতে পারেনি। এখন যখন প্রতিবাদ করতে চাই। আমার মুখ বন্ধ করার জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেব চক্রান্ত করছে, ষড়যন্ত্র করছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*