কলেজের কেরাণীর কারণে একটা বছর নষ্ট হয়ে গেলো মেধাবী ছাত্রী বিথির

অভাবের সংসারে সকল কাজ কর্মের মাঝেও চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের পড়াশোনা। অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৫০ পয়েন্টে এবং ৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করণিকের ভুলের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে আরো একটা বছর ন’ষ্ট হয়ে গেলো নাটোরের বাগাতিপাড়ার জামনগর ইউনিয়নের কালী কাপড় সরদার পাড়া গ্রামের দিন মজুর নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং উপজে'লার বাশঁবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বিথি খাতুনের।

তার বোর্ড রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৫১২৬৭৮৯৫৫ ও শ্রেণী রোল ৩২১। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের নিয়মিত মেধাবী শিক্ষার্থী বিথি খাতুন ২০২০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য স্থানীয় এক শিক্ষকের মাধ্যমে গত ০৪-০১-২০২০ তারিখে উ’ক্ত কলেজে ফরম পূরণ বাবদ দুই হাজার পাঁচশত (২৫০০) টাকা প্রদান করেন ঐ কলেজের করণিক আব্দুর রাজ্জাকের নিকট। ফরম পূরণের জন্য ২৫০০ টাকা জমা'র বিপরীতে বিথির শ্রেণি রোল নম্বর ৩২১ উল্লেখিত জমা র'শিদ বহির ২৪১ নম্বর র'শিদ তাকে (বিথিকে) দেন করণিক রাজ্জাক।

এরই মধ্যে সারা বিশ্বের মতো এদেশেও ক’রো’না ভা’ইরা’স কো’ভি’ড-১’৯ এর পা’দুর্ভা’ব দেখা দিলে ১৭ মা'র্চ ২০২০ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থগিত করা হয় সকল পরীক্ষা। এক বছর অতিবাহিত হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সি'দ্ধান্ত নেয় মেধাবী যাচাই করে অটো পাসের। সেই অটো পাসের ফলাফল প্রকাশ হলে অনেক আশা নিয়ে বিথি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে পারেন তার রেজাল্ট আসেনি। এমন খবরে সে দি’শেহা’রা হয়ে কলেজের করণিক আব্দুর রাজ্জাক এবং অধ্যক্ষ ছাবিহা সুলতানার কাছে গেলে জানতে পারেন সে নাকি ফর’ম ফিলাপ করেননি তাই তার প্রবেশ পত্র ও রেজাল্ট আসেনি। এমন অ’নাকা’ঙ্ক্ষি’ত খবরে সে এবং তার পরিবারের সবাই মা’নসি’ক ভাবে ভে’ঙে পরেছেন।

বিথি খাতুন বলেন, আমি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধিনে বাশঁবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষের এইচ এস সি দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের একজন নিয়মিত ছাত্রী। আমি ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফরম পূরণ বাবদ দুই হাজার পাঁচশত টাকা জমা দিয়ে আমা'র শ্রেণী রোল নম্বর-৩২১ দেয়া জমা'র র'শিদ নিয়ে এসেছি। জমা'র র'শিদ বহি নম্বর-২৪১। আমা'র রেজাল্ট না আসায় কলেজ থেকে আমাকে দো’ষার’প করা হচ্ছে।

করণিক রাজ্জাক আমা'র ফরম পূরণের ২৫০০ টাকা আ’ত্নসা’ৎ করে আমা'র জীবন থেকে ১টা বছর ন’ষ্ট করে দিয়েছেন। আমি এটার সুষ্ঠু ত’দন্তে’র মাধ্যমে আমা'র রেজাল্ট চাই। সেজন্য আমি বাঁশবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের করণিক আব্দুর রাজ্জাক আমা'র ফরম পূরণের ২৫০০টাকা আ’ত্মসা’ৎ করেছে মর'্মে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় শিক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদ'প্ত রের মহাপরিচালক ঢাকা, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরিক্ষা নি’য়ন্ত্র’ক এবং জে'লা প্রশাসক ম’হাদ্বয়কে অবহি’ত করে উপজে'লা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অ’ভিযো’গ দাখিল করেছি।

এ বি'ষয়ে বাঁশবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের করণিক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বলেন, এই পরীক্ষার জন্য বিথি ফরম পূরণ করেনি তাই তার রেজাল্ট আসেনি। ফরম পূরণ বাবদ ২৫০০ টাকা নিয়ে টাকা জমা'র র'শিদ দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, না এই নজরুলের মেয়ে বিথি কলেজে আসেনি ফরম পূরণ করেনি তাকে কোনো টাকা জমা'র র'শিদও দেয়া হয়নি। তার বি’রু’'দ্ধে টাকা ‘আ’ত্ম’সাৎ এর অ’ভিযো’গটি সম্পূর্ণ মি’থ্যা।

পরে আবার বলেন, বিথি নামে দুইজন পরীক্ষার্থী থাকায় এই সম’স্যা হয়েছে। তবে তার সাথে আরো কথা বলে কোনো সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি।বি'ষয়টি নিয়ে ঐ কলেজের অধ্যক্ষ ছাবিহা সুলতানার কাছে প্রথমে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনিও ঠিক ওই করণিক রাজ্জাকের মত একই কথা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।এই প্রতিবেদকের কথার সঠিক উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনে কথা বলবেন না বলে জানান এবং এ বি'ষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে কথা বলতে বলেন।মেধাবী শিক্ষার্থী নজরুলের মেয়ে বিথির রেজাল্ট আসেনি কেন পরের দিন কলেজে গিয়ে একই প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ ছাবিহা ওই একই কথা বলে দায় এড়িয়ে যান।

তবে তিনি আরো বলেন, আমি সহ আমা'র সকল শিক্ষক ওই মেয়েকে বলেছি যা হওয়ার হয়েছে সামনে বছর ফরম পূরণের জন্য তোমা'র কোনো টাকা দিতে হবে না, আমর'াই তোমা'র ফরম পূরণের ব্যবস্থা করবো এ নিয়ে আর কিছু করার দরকার নেই।আমি অ’ভি’যো’গটি পেয়েছি এবং ত'দন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগাতিপাড়া উপজে'লা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল। উপজে'লা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহাদ আলী সরকার বলেন, এ ধরণের কোনো কাগজপত্র তিনি পাননি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*