গরিব জামাইকেও শ্বশুরবাড়িতে কিনে নিতে হয় বড় বড় মাছ

ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহের মেলা। অনেকে এটিকে জামাই মেলাও বলে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামে এখন আনন্দের বন্যা। দুদিন আগে থেকে আসতে শুরু করেন মেয়ে জামাইসহ আ'ত্মীয় স্বজন। মেলা ঘিরে আশপাশের গ্রামে চলছে নানা আনন্দ উৎসব এবং অতিথি আপ্যায়নের আমেজ। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ নানা প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ। বড় জাতের সব মাছই রয়েছে এ মেলায়।

শুধু মাছই নয়, কাঠের ফার্নিচার থেকে মিষ্টি মিঠাই সব কিছুই মিলবে মেলাতে। এ মেলার কেনাকা'টাতে একটি রেওয়াজ রয়েছে। এখানে জামাইকে মেলার বাজার করতে হয়। অনেক গরিব জামাইকে শ্বশুরই টাকা দেন মেলার বাজার করতে। জামাইরা মেলাতে গিয়ে বড় মাছসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বাজার করেন শ্বশুরবাড়ির জন্য।বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তন্নীবাজার গ্রামের এক জামাই জানান, মেলায় এসে তিনি ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাঘাইড় মাছ কিনেছেন। এছাড়া শ্যালক এবং শ্যালিকার জন্য মিষ্টি মিঠাই রয়েছে। মেলাতে আসতে পেরে তিনি বেশ খুশি।

বগু'ড়ার গাবতলী উপজে'লা গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে প্রতিবছর এ পড়াদহ মেলা বসে মাঘ মাসের শেষ বুধবার। কথিত রয়েছে প্রায় ২০০ বছর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সন্ন্যাসীরা বগু'ড়ার গাবতলী উপজে'লার গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে আস্তানা গাড়েন। এর প্রায় ৫০ বছর পর স্থানীয়রা এখানে সন্ন্যাসী পূজার পাশাপাশি গোড়াপত্তন করেন ঐতিহ্যবাহী এই মেলার।সেই থেকে বর্তমানে এ মেলাটির সর্বজনীন মেলা হিসেবে বগু'ড়াসহ আশপাশে জে'লায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। সব জাতি বর্ণের মানুষ আসেন এ মেলায় কেনাকা'টা করার জন্য।

এক সময় এই মেলার পরিধি ছিল প্রায় একশ একর জমির উপর। সরকারি সামান্য জমির পাশাপাশি আশপাশের জমি কয়েকদিনের জন্য লিজ নিয়ে মেলা কমিটি বড় পরিসরে মেলা বসাতেন। কালের বিবর্তনে মেলার আয়তন কমতে কমতে এখন পঞ্চশ একরে কম এসে ঠেকেছে। তবে মেলা নিয়ে আগ্রহ উৎসবের কমতি নেই এলাকাবাসীর।

গাড়ীদহ নদীর পার্শ্বে সন্ন্যাসী মন্দিরের পুরোহিত এবং পূজারীরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরানো এ স্থানে সন্ন্যাসীদের আগমন ঘটেছিল এই স্থানে। এরপর মন্দির তৈরি করে পূজা অর্চনা করা 'হতো। সেই থেকে প্রতিবছরই মাঘ মাসের শেষ ম'ঙ্গলবার বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত মন্দির প্রা'ঙ্গণে পূজার আয়োজন থাকে।মেলার অয়োজক কমিটির সভাপতি মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, মেলা যাতে নির্বিঘ্নে চলে সে লক্ষ্যে প্রশাসনসহ এলাকাবাসী সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে। একদিনের মেলা হলেও পরদিনও এই মেলা চলে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*