গাজীপুরে মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে নি'র্যাতন

সংসারের স্বচ্ছলতা ও সুখের আশায় ‘জিনের বাদশা’র চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সুদে আনা ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় এক পাওনাদার ও তার লোকজন গৃহবধূ মমতাজ বেগম ও তার মেয়েকে গাছে বেঁধে নি'র্যাতন করেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজে'লার সিরাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে মমতাজ বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ৭ জনের নামে মা'মলা করেছেন।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন জানান, ভিক্টিমর'া হলেন কালিয়াকৈর উপজে'লার সিরাজপুর এলাকার মৃ'ত আব্দুর র'শিদের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) ও তার মেয়ে মাহবুবা আক্তার ঝুমা (১৬)।

ঝুমা মনিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। মমতাজ একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গত ৫ বছর আগে মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুর র'শিদ মা'রা যান। এরপর মমতাজ বেগম তার একমাত্র মেয়ে ঝুমাকে নিয়ে বনের জমিতে বসবাস করে আসছেন। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে অনেক কষ্টে তার মেয়ে ঝুমাকে লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। নানা অভাব-অনটনের মধ্যে কোনোরকমে তাদের সংসার চলছে।

সংসারের অভাব-অনটন থেকে মুক্তি পেতে মমতাজ সম্প্রতি এক ‘জিনের বাদশা’র খপ্পরে পড়েন। সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে দেবে এমন প্রতিশ্রুতিতে জিনের বাদশা তার কাছে মোটা অ'ঙ্কের টাকা দাবি করে।

ভিক্টিম মমতাজ জানান, জিনের বাদশার ওই টাকা যোগাড় করতে তিনি স্থানীয় গফুর ড্রাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত ওই টাকা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। টাকা ফেরত দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইব্রাহীম এক মাসের সময় দিয়েছেন।

মমতাজ বলেন, আমি ওই টাকা ফেরত দেবো। কিন্তু ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা বৃহস্পতিবার আমা'র বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে ও আমা'র মেয়েকে গাছের স'ঙ্গে বেঁধে পাশবিক নি'র্যাতন চালিয়েছে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের আ'হত অবস্থায় উ'দ্ধার করে। ঘটনার পর জড়িতরা পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে মমতাজ বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মা'মলা দায়ের করেছেন।

কিন্তু তাদের সংসারে হানা দেয় একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের বিরু'দ্ধে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিধবা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় একটি অ'ভিযোগ দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অ'ভিযুক্ত আব্দুল গফুর জানান, তাদের টাকা আ'দায়ের জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাউকে বাঁধা বা মা'রধোর করা হয়নি। তাদের অ'ভিযোগ মিথ্যা।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইব্রাহীম সিকদার জানান, ঘটনা শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি মা-মেয়েকে গাছের স'ঙ্গে বেঁধে মা'রধর করছে। পরে তাদের সেখান থেকে উ'দ্ধার করেছি। ঘটনাটি দুঃখজনক।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রা'প্ত কর্মক'র্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে স'ঙ্গে স'ঙ্গে তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা একটি অ'ভিযোগ দিয়েছে, সেটি গ্রহণ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রে''প্ত ারে অ'ভিযান চলছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*