নারী জনপ্রতিনিধি হয়েও অপর নারীকে দিয়ে দেহব্যবসা, অতঃপর

বিউটি পার্লারের আড়ালে উপজাতি কিশোরীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করানো গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল রোকসানা আহমেদ রোজীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণের দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।নারী জনপ্রতিনিধি হয়েও অপর নারীকে দেহব্যবসায় বাধ্য করানোর বিষয়টিকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এমন বিষয় কখনোই আশা করা যায় না। যিনি অপরাধ করেছেন সে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও এখন একজন অপরাধী। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি থাকে জনসেবা করার। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রতিশ্র“তি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।

সংবিধানে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণতো সরাসরি রাষ্ট্রপরিচালনা বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অংশ নেয় না। জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়। সেই দিক বিবেচনায় জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের মালিকদের প্রতিনিধি। তার মানে তারা মালিকদের প্রতিনিধিত্ব করছে। মালিকদের নেতা তারা। যারা নেতৃত্ব দেবে তারা মানুষের সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে-এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করবে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ (সংশোধিত ২০১১) অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য মেয়র বা কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। আইনে বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে এবং অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি অপসারিত হবেন।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনও সুপারিশ করা হয়েছে কিনা জানতে মুঠোফোনে মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, পুলিশ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে (চার্জশীট) কাউন্সিলরকে দোষী সাব্যস্ত করলেই তাকে বরখাস্ত করতে হবে। গ্রেফতারের পর ইতোমধ্যে তার শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সংরক্ষিত কাউন্সিলর হিসেবে নারীঘটিত বিষয়ে তাকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। ওই কাউন্সিলর যেই ধরনের অপরাধ কর্মে জড়িত তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এমনকি সে দোষী সাব্যস্ত হলে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা দরকার। সুজনের পক্ষ থেকে এটাই প্রত্যাশা করছি।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত (১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর) ওয়ার্ড কাউন্সিলর রোকসানা আহমেদ রোজীর মালিকানাধীন চান্দনা চৌরাস্তার রহমান শপিং মলের আনন্দ বিউটি পার্লারে প্রায় চার মাস আগে চাকরি নেয় সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা উপজাতি ওই কিশোরী (১৬)। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানাধীন বড়য়াকোনা এলাকায়। পার্লারে চাকরির পাশাপাশি প্রথমে তাকে দিয়ে গ্রেট ওয়াল সিটি এলাকায় রোজীর ভাড়া বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর ওই কিশোরীকে বাসায় আটকে রেখে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক নুরুল হকের সহযোগিতায় প্রায় তিন মাস যাবৎ বিভিন্ন সময়ে দেহব্যবসায় বাধ্য করেন কাউন্সিলর রোজী।

এক পর্যায়ে গত ১৬ ফেব্র“য়ারি কৌশলে ঘটনাটি জানালে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিএমপি’র বাসন থানায় কাউন্সিলর রোজী ও কেয়ারটেকার নুরুল হকসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনের বিরুদ্ধে ঘটনার দিনই মামলা করে ওই কিশোরী। পরে তাৎক্ষণিক বাসন থানা পুলিশ নুরুল হককে গ্রেফতার করলেও পলাতক ছিলেন কাউন্সিলর। গ্রেফতারের পর থানা পুলিশের কাছে রোজীকে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে তাকে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*