মিয়ানমা'রের সেনাবাহিনী ‘যু'দ্ধ ঘোষণা’ করেছে: জাতিসং'ঘের বিশেষ কর্মক'র্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমা'রে র'ক্তপাতহীন সামর'িক অভ্যুত্থানের ১৪তম দিনে দেশটির বেশ কয়েকটি শহরের রাস্তায় সেনাবাহিনীর সশস্ত্র গাড়ি টহল দিচ্ছে। দেশটির বেশির ভাগ জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই মিয়ানমা'রে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হলো দেশটিতে।

এদিকে মিয়ানমা'রের কাচিন রাজ্যের উত্তরে নিরাপ'ত্তা বাহিনী সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে চলা বিক্ষো'ভে গু'লি চালিয়েছে। জাতিসং'ঘের এক কর্মক'র্তা অ'ভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনী ‘যু'দ্ধ ঘোষণা’ করেছে। মিয়ানমা'রবি'ষয়ক জাতিসং'ঘের বিশেষ কর্মক'র্তা টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, জান্তা সরকার বেপরোয়া আচরণ করছে। এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

মিয়ানমা'রের টেলিকম অ’পারেটররা জানান, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গার্ডিয়ানের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর তা আবার সচল হয়।

নেইপিদোর একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, নিরাপ'ত্তা বাহিনী রাতে বাড়িতে বাড়িতে অ'ভিযান চালিয়েছে। নিরাপ'ত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বের 'হতে নিষে'ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমা'দের মতো জরুরি প্রয়োজনে যাদের বের 'হতে হবে, তাদের পুলিশ ও সেনাবাহিনী গ্রে'ফতার করতে পারে। এসব নিয়ে আমি উদ্বি'গ্ন।’

মিয়ানমা'রে সামর'িক শাসনের বিরু'দ্ধে যারা বিক্ষো'ভের ডাক দিয়েছেন তাদের বিরু'দ্ধে গ্রে'ফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই বিক্ষো'ভকারীদের যাতে আশ্রয় না দেওয়া হয়, সে জন্য জনসাধারণকে সতর্ক করেছে সামর'িক সরকার। মিয়ানমা'রে প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষো'ভের ডাক দিয়েছিলেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর বিক্ষো'ভে নেমেছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মক'র্তা-কর্মচারীরা। তাদের লক্ষ্য করেই এই গ্রে'ফতার অ'ভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ এখন সাত বিক্ষো'ভকারীকে খুঁজছে। ওই সাতজনের মধ্যে পরিচিত কয়েকজন গণতন্ত্রকামী অধিকারকর্মী রয়েছেন। তাদের গ্রে'ফতারে সাহায্য করতে একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমা'রে সামর'িক অভ্যুত্থান হয় ১ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। আর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হং লাইং। এ ছাড়া ভারপ্রা'প্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক জেনারেল ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়েকে। পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট মিন্ট, সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের প্রথমে আট'ক এবং পরে বিভিন্ন অ'ভিযোগে গ্রে'ফতার দেখানো হয়। এরপর দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*