ল'জ্জাবতী গাছের ঔষধি গু'ণাবলী জে’নে অ’বাক হবেন!

ল'জ্জাবতী। আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা। পরিচয় বর্ষজীবি গু'ল্ম আগাছা বা ঔষধি গাছ। কাণ্ড লতানো। শাখা প্রশাখায় ভরা। কাঁটাযুক্ত। লালচে রঙের। কিছুটা শক্ত।

সহজে ভা'ঙ্গে না বরং পেচিয়ে টানলে ছিড়ে যায়। পাতা কয়েক জোড়া পাতা বিপ্রতীপভাবে থাকে। অনেকটা তেতুল পাতার মত। হাত ও পায়ের স্প’র্শে লজ্জ্বা'বতীর পাতা বুঁজে এসে ব’ন্ধ হয়ে যায়। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। উপপত্র কাঁটায় ভরা।

ল'জ্জাবতী, স্থানীয়ভাবে একে ল'জ্জাবতী, সম'ঙ্গা, ল'জ্জালু, অঞ্জলিকারিকাও বলা হয়। এর পাতা ও ফুল ব্যবহার করা হয়। এর অনেক ঔষধি গু'ণ রয়েছে। হাত-পা জ্বা'’লা, অর্শ্ব, র’ক্তপিত্ত, যোনির ক্ষ’ত, নাড়ি সরে আসায়, আঁধারযোনি ক্ষ’তে, আমাশয়, দ’মকা ভেদ, মল কাঠিন্যে, দাঁতের মাড়ি ক্ষ’তে, বগলে দুর্গন্ধ, কানের পুঁজে, গ্রন্থিবাত, কুজ্জতা বিভিন্ন রো’গে ল'জ্জাবতী বেশ উপকারী।

আজ আম’রা জে’নে নেই কিভাবে ল'জ্জাবতী খেতে হবে—

হাত-পা জ্বা'’লা নিরাময়ে: হাত-পা জ্বা'’লার স’'ঙ্গে শ’রীরে জ্বর থাকে। এটা সাধারণত বর্ষা ও শরৎকালে পিত্ত বিকারে দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে ল'জ্জাবতীর গাছ মূল পাতা ১০ গ্রাম ৪ কাপ পানিতে সি'দ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সেবন করলে উপকারে লাগে।

অর্শ্ব রো’গ: অর্শ্বের বলিতে জ্বা'’লা বেশি। ঝাল না খেয়েও যেন সেই রকম য’ন্ত্রণা। তার স’'ঙ্গে র’ক্তস্রাবও বেশি 'হতে থাকে। এক্ষেত্রে গাছে ও মূলে ১০ গ্রাম আন্দাজ এক কাপ দুধ ও তিন কাপ পানি এক স’'ঙ্গে মিশিয়ে একত্রে সি'দ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রত্যেক দিন সকাল-বিকেল দু’বার খেতে হবে। ছাগলের দুধ হলে ভাল হবে।

নাড়ি সরে আসা: বহু প্রসূতি সন্তান প্র’সবের সময় ধাত্রীর অসা’বধানতায় নাড়ি সরে যায়, উঁচু হয়ে বসতে গেলে অস্ব’স্তি বোধ করে। এক্ষেত্রে ল'জ্জাবতীর ১০ গ্রাম আন্দাজ গাছপাতা চার কাপ পানিতে সি'দ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে এটা প্রতিদিন সকাল-বিকেল দু’বার খেলে ঠিক হয়ে যাব'ে।

আমাশয়: ল'জ্জাবতীর ডাঁটা পাতা মিলিয়ে ১০ গ্রাম সি'দ্ধ করে ছেঁকে খেতে হবে। আর যাদের আমযুক্ত গাঁজলা দাস্ত হয়, তারা শুধু পাঁচ বা ছয় গ্রাম সি'দ্ধ করে ছেঁকে ওই পানি খেলে উপকার পাবেন।

ঘামের দুর্গন্ধ দূ’রে: অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং পোশাকে হলদে দাগ লাগে। এক্ষেত্রে ল'জ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শ’রীর মাখতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দূ’র হবে।

যৌ'’নি ক্ষ’তে: যে কোন কারনে যনিপথে ক্ষ’ত হলে, প্রথমিক স্তরে মাঝে মাঝে অথবা প্রায় রোজই অল্প স্রাব চলতে থাকে, একটা আশটে গন্ধ, কখনো বা একটু লালচে স্রাব হয়, এসব ক্ষেত্রে চিকি’ৎসক সা’বধান করে থাকেন, এটি পরিণামে ক্যা’ন্সার হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে দুধ-জলে সি'দ্ধ করা ল'জ্জাবতীর কাথ দিনে ২ বার খেলে এ রো’গ উপশম হয়। একই সাথে ল'জ্জাবতীর ক্বাথ দিয়ে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষ’ত সেরে যায়।

আঁধার যোনি ক্ষ’তে: এ বিচিত্র রো’গটি কৃষ্ণপক্ষে বেড়ে যায় আর শুক্লপক্ষে শুকাতে থাকে । এ ক্ষ’তটি হয় সাধারণত হাটুর নিচে, আর না হয় কুঁচকির দু’ধারে। এক্ষেত্রে গাছও পাতা (মূল বাদে) ১০ গ্রাম শুধু জল দিয়ে ক্বাথ করে খেতে হয় এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে মুছতে হয়, ফলে অসুবিধা দুর হয়।

রমনে অতৃ'প্ত ি: কয়েকটি সন্তান হওয়ার পর প্র’সবদ্বারের শৈথিল্য হয়েছে , সেটার অনেকটা মেরামত করে দিয়ে থাকে এ ল'জ্জাবতীর ক্বাথের ডুশ নেওয়ায়, আর গাছের পাতা সি'দ্ধ ক্বাথ দিয়ে তৈরি তেলে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পিচুধারণ কারা'লে এছাড়া অন্ডকোষের পানি জমা সারাতে পাতার পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

আমাশয়: অনেকের আছে পুরানো আমাশয় । মল ত্যা’গের বেগ হলে আর অ’পেক্ষা ক’রতে পারে না । গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর আর 'হতে চায় না ।আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০ গ্রাম ল'জ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সি'দ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এ ক্বাথ খেলে তারা অবশ্যই উপকার পাবেন।

দুর্গন্ধ দুর ক’রতে: অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে ল'জ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শ’রীর মুছতে হবে বা লা’গাতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দুর হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য: অনেকের মল গু'লটে হয়ে যায়, বুলেটের মত কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই। এক্ষেত্রে মূল ৭ /৮ গ্রাম থেঁতো করে সি'দ্ধ ক’রতে হবে এবং ছেঁকে ঐ পানিটা খেতে হবে। তাহলে উপকার হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*