লিটন-মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়াল বাংলাদেশ

১৫৫ রানে নেই ৬ উইকেট। ঢাকা টেস্টে ফলোঅন এড়াতে তখনও ৫৫ রান দরকার বাংলাদেশের। ব্যাটিং ধস থামাতে না পারলে সেটাও সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল না। তবে লিটন দাস আর মেহেদি হাসান মিরাজের দায়িত্বশীলতায় ফলোঅন এড়িয়ে লড়ছে টাইগাররা।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকে'টে ২১৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেকে স্বাগতিকরা পিছিয়ে আছে ১৯৪ রানে। লিটন-মিরাজ স'প্ত ম উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন'্ন আছেন ৬০ রানে। লিটন ৩৯ আর মিরাজ ২৮ রান নিয়ে অ’পরাজিত।

টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন বাংলাদেশ করেছিল ৪ উইকে'টে ১০৫ রান। মাত্র ৭১ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর ফলোঅনের শঙ্কা দেখা দিলেও শেষ বিকেলে আশা দেখান মোহা'ম্ম'দ মিঠুন ও মুশফিকুর রহীম। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দিন শেষের ২০.১ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। আশা ছিল দ্বিতীয় দিনও তারা এ ধা'রা বজায় রাখবেন।

আজকের (শনিবার) সকালের শুরুটাও দারুণ করেছিলেন মিঠুন ও মুশফিক। দিনের প্রথম ওভার থেকেই রানের খাতা সচল রেখে খেলতে থাকেন তারা। কিন্তু হুট করেই রাহকিম কর্নওয়ালের স্পিনে ছন্দপতন, ১৩ রানের ব্যবধানে মুশফিক-মিঠুনের বিদায়ে ফের বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

আগেরদিন ৬১ বলে ৫ রান মিঠুন আজ দিনের প্রথম ওভারেই দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভে হাঁকান নিজের ইনিংসের প্রথম চার। অন্যপ্রান্তে মুশফিকও খেলতে থাকেন ইতিবাচকভাবে। কো'প টা বেশি পড়ছিল পেসার শ্যানন গ্যাব'্রিয়েলের ওপরই। তার গতিময় বোলিংয়ে রান তোলার কাজটা যেন সহজ হয় মুশফিক-মিঠুন জুটির।

এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বোলিংয়েও বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও ইচ্ছা পরিষ্কার করে দেন মুশফিক। পরে কর্নওয়াল আ'ক্রমণে এলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মিডউইকেট দিয়ে চার মা'রেন মিঠুন। কিন্তু অতিরক্ষণাত্মক থেকে হুট করে আ'ক্রমণাত্মক হওয়াটাই বিপদ ডেকে আনে মিঠুনের জন্য।

দিনের দশম ও ইনিংসের ৪৬তম ওভারের প্রথম বলটি আলতো করে লেগসাইডে খেলার চেষ্টা করেছিলেন মিঠুন। কিন্তু বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে চলে যায় শর্ট মিডউইকে'টে। দারুণভাবে সেই বলটি তালুবন্দী করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েট। সমা'প্ত ি ঘটে মিঠুনের দুই বাউন্ডারির মা'রে খেলা ৮৬ বলে ১৫ রানের ইনিংসের।

মিঠুন ফেরার আগেই ক্যারিয়ারের ২২তম ফিফটি তুলে নিয়েছিলেন মুশফিক। তবে হাফসেঞ্চুরির পর তেমন উদযাপন করেননি তিনি, ব্যাটটাও ওপরে তুলেননি, শুধু ড্রেসিংরুমের অ'ভিবাদনের জবাবটা দিয়েছিলেন হাত উঁচিয়ে। মুশফিক যেন বোঝাতে চেয়েছিলেন, ফিফটিতেই শেষ হয়ে যায়নি তার কাজ।

কিন্তু তার খেলায় দেখা গেল এর পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র। কর্নওয়ালের বলে সুইপ করতে গিয়ে অল্পের জন্য লেগ বিফোরের হাত থেকে বেঁচে যান তিনি। এরপর তার ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া একটি বল বেরিয়ে যায় লেগস্লিপের একদম পাশ দিয়ে।

অন্তত দুইবার এমন হওয়ার পরেও সতর্ক হননি মুশফিক। ম্যাচের অবস্থা ও পরিস্থিতি না বুঝেই খেলেন রিভার্স সুইপ। যেখানে ছিল না টাইমিংয়ের ছিটেফোঁটাও। যে কারণে তার ব্যাটের সামনের অংশে লেগে বল চলে যায় শর্ট কভারে দাঁড়ানো কাইল মায়ারসের হাতে এবং অ’পমৃ'ত্যু ঘটে মুশফিকের ৫৪ রানের ইনিংসের।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*