আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি, বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা। ফুটবল জাদু দিয়ে যিনি সব সময়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি শিরোনামে আছে কাতালান ক্লাব বার্সা ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে। ক্রীড়া জগতে বর্তমানে এর চেয়ে আলোচিত আর কোনও সংবাদ নেই।

তবে বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণায় মেসির ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এই প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয় বার্সেলোনার প্রাক মৌসুমের প্রথম অনুশীলনে লিওনেল মেসি যোগ না দেওয়ায়।

কাতালান সমর্থকদের অনেকে বি’ষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিলেও লিও পেশাদার আচরণ করছেন না বলে মনে করেন বার্সেলোনা ভক্তরা। এদিকে, প্রথম দিনের অনুশীলন বলেই হয়তো, দেখা যায়নি বার্সেলোনার বড় কোন তারকাকেও।

জোয়ান গ্যাম্পার স্টেডিয়ামের বাইরে বেশ বড়সড় একটা জটলা ছিলো। বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সমর্থকরাও। অপেক্ষা বার্সেলোনার ফুটবলারদের জন্য। এখানেই যে শুরু হবে প্রাক মৌসুমের প্রথম অনুশীলন; রোনাল্ড কোম্যানের কাতালান যাত্রা।

কিন্তু বিউগলের করুণ সুর থামিয়ে, ট্রামপেটের আ’নন্দ ধ্বনি বাজলোনা গ্যাম্পারের আঙিনায়। অপেক্ষার পালা শেষ করে, একে একে আসলেন জেরার্ড পিকে, জর্ডি আলবা, লুইস সুয়ারেজ, ওসমান ডেম্বেলেরা। আসলেন না শুধু অপেক্ষার মধ্য মণিতে থাকা লোকটা, লিওনেল মেসি।

সবগুলো গাড়ি ঢুকে যাওয়ার পর পর, ভে’ঙে গেলো চাঁদের হাট। এদিক ওদিক ছত্রখান হয়ে নিজেদের হতাশ মুখগুলো লুকাতে লাগলেন বার্সেলোনার জার্সি আর পতাকা গায়ে জড়িয়ে আসা কয়েকজন। হতভম্ব চোখগুলো তখনো খুঁজে যাচ্ছিলো ক্ষুদে জাদুকরকে।

এক সমর্থক বলেন, একজন ফুটবল সমর্থক হিসেবে বলছি, আমি চাই মেসি থেকে যাক। এতোগুলো বছর সে আমাদের যে জাদুতে মুগ্ধ করে রেখেছিলো, তা এভাবে শেষ হতে পারে না। তার এবং ক্লাবের সি’দ্ধান্তগুলোতে আমরা হতাশ।

আরেকজন বলেন, দেখো, সে আমাদের আইডল। তাকে ছাড়া কাতালান ফুটবল আমরা চিন্তা করতে পারি না। সে আমাদের ফুটবল ঈশ্বর। মেসি, প্লিজ আমাদের কথা ভেবে হলেও থেকে যাও।

তবে, সবাই যে এক বাক্যে মেসিকে সমর্থন করছে তাও কিন্তু নয়। ক্লাবের স’ঙ্গে চুক্তি থাকা স্বত্বেও, মেসির এহেন কার্যকলাপে অখুশি অনেক সমর্থকরা। তাদের মতে, এতোটা অপেশাদার আচরণ লিও’র কাছ থেকে তারা আশা করে না।

একজন বলেন, সে যখন এখানে এসেছিল তার কিছুই ছিল না। এই ক্লাব তাকে সব দিয়েছে। আজ ক্লাবকে বি’পদে ফে’লে সে চলে যেতে চাইছে, এটা ঠিক নয়।

আরেকজন বলেন, চলে যেতে চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে তার একটা প্রক্রিয়া আছে। তার বাইরে গিয়ে এভাবে অনুশীলনে না আসা কোনওভাবেই পেশাদার আচরণ নয়। আমরা মেসির কাছ থেকে এ রকম ব্যবহার আশা করিনি।

লা লিগা কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, রিলিজ ক্লজের ৭০০ মিলিয়ন দিলেই কেবল বার্সেলোনা ছাড়তে পারবেন লিওনেল মেসি। তবে, তার আইনজীবী এবং স্প্যানিশ বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, চুক্তির শেষ মৌসুমে তামাদি হয়ে গেছে রিলিজ ক্লজ ইস্যু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here