ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতা। নাম থানকুনি। খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। ল্যাটিন নাম । গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ও’ষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রো’গ নিরাময়ে অতুলনীয়। রো’গ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে স’ক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়।

গবে’ষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খান, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শ’রীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষ’মতা বাড়তে শুরু করে। চলুন যেনে নেয়া যাক, থানকুনির ও’ষুধি সব গুণ সম্প’র্কে-

আমাশয় দূর করে: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে হবে। টানা ৭ দিন খেলে মা’মলা খালাস!

পেটের রোগের চিকিৎসা: অল্প পরিমাণ আম গাছের ছালের স’ঙ্গে ১টা আনারসের পাতা, হলুদের রস এবং পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা ভালো করে মিশিয়ে বেটে নিন। মিশ্রনটি নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই যে কোনো ধরনের পেটের অসু’খ সেরে যায়।

কাশির প্রকোপ কমে: ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের স’ঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে স’ঙ্গে স’ঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই।

জ্বরের প্রকোপ কমে: জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পড়েন অনেকে। তাদের থানকুনি পাতা খাওয়া জরুরি। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে- জ্বরের সময় ১ চামচ থানকুনি এবং ১ চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়।

চুল পড়ার কমে যায়: সপ্তাহে ২-৩ বার থানকুনি পাতা খেলে স্কাল্পের ভে’তরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে চুল পড়া কমতে শুরু করে। পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা নিয়ে তা থেঁতো করে নিতে হবে। তারপর তার স’ঙ্গে পরিমাণ মতো তুলসি পাতা এবং আমলা মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। সবশেষে পেস্টটা চুলে লাগিয়ে নিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ১০ মিনিট পরে ভাল করে ধুয়ে ফেললেই হবে।

শ’রীর থেকে বেরিয়ে যায় টক্সিক উপাদান: ক্ষ’তিকর টক্সিন আমাদের শ’রীরে, র’ক্তে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের স’ঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে র’ক্তে উপস্থিত ক্ষ’তিকর উপাদান বেরিয়ে যায়।

ক্ষ’তের চিকিৎসা: শ’রীরের কোথাও কে’টে গেলে স’ঙ্গে স’ঙ্গে সেখানে অল্প করে থানকুনি পাতা বেঁটে লাগিয়ে দেবেন। দেখবেন নিমেষে ক’ষ্ট কমে যাবে।

হজম শ’ক্তি বৃ’দ্ধি: থানকুনি পাতা হজম ক্ষ’মতারও উন্নতি করে। থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে টিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো স’মস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃ’দ্ধি: থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্য়াটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

গ্যাস্ট্রিকের স’মস্যা দূর: গ্যাস্ট্রিকের স’মস্যা থাকলে নো প্রবেলম! থানকুনি পাতা কিনে আনুন বাজার থেকে। তাহলেই দেখবেন স’মস্যা একেবারে হাতের মধ্যে চলে আসবে। আসলে এক্ষেত্রে একটা ঘরোয়া চিকিৎসা দারুণ কাজে আসে। কী সেই চিকিৎসা? হাফ লিটার দু’ধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করুন।

তারপর সেই মিশ্রন থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এক সপ্তাহ করলেই হাতেনাতে মিলবে উপকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here