নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আবার প্রয়াত বাবা আলী আহাম্ম’দ চুনকার অবদান সম্প’র্কে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারে না। এখন অনেকেই সবার সামনে সত্য কথা বলতে চায় না।

তিনি বলেন, ‘আমি কোন কিছুই ভ’য় না পেয়ে ২০০৩ সালে যখন আওয়ামী লীগের অবস্থা ছিল খা’রাপ তখন থেকেই আমি লড়ে যাচ্ছি। ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল

আমি কখনই সিদ্ধিরগঞ্জ, শহর বা কদমরসূলকে আলাদা করে দেখিনি। আমি কখনই কোন এলাকাকে খাটো করে দেখি নাই। সব এলাকাতেই সমানতালে উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। হয়তো কোথাও কম বেশী হয়েছে।’

‘একটা সময়ে আমার বি’রুদ্ধে পত্রিকাগুলো যা খুশী তাই লিখতো। আমি শুধু এতটুকুই বলতাম যে লিখেন কিন্তু গঠনমূ’লক সমালোচনা করেন। একজন পুরু’ষ যখন সিটি করপোরেশন চালাতে গিয়ে কাউকে ধমক দেয় কিংবা বকা দেয় তখন কিছুই হয় না। কিন্তু আমি একজন না’রী সেটা করলেই দোষ হয়ে যায়। বলা হয় এ না’রী ধমক দেয়,

বদমেজাজী ইত্যাদি। এক সময়ে পুরাতন ঐতিহ্য ভু’লে বি’পদগামী নারায়ণগঞ্জকে সঠিক জায়গায় আনার জন্য একজন না’রী নেতৃত্ব দেয় তখনই আমার বি’রুদ্ধে পোস্টার সাটানো, আইল্যান্ডের উপর ফাঁ’সি দেওয়া হয়। কিন্তু আমি পিছপা হয়নি। আমি সেই তথাকথিত বোরকা পড়া না’রী না যে লজ্জায় মাথানত করে চলে যাবো।

আমি এ শহরে উদ্ভাস্ত না। আমি এ শহরে ভেসে আসি নাই। যখন আমি কাজ শুরু করেছি তখন ভেবে চিন্তেই শুরু করেছি। আমিও আরো ১০জন পুরু’ষের মতই তাল মিলিয়ে কাজ করে যেতে চাই।’

‘আমি দেশের বাইরে উন্নত রাষ্ট্রে জীবন যাপন করতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করি নাই। বরং নাড়ির টানে নারায়ণগঞ্জবাসীর টানেই আমি এ শহরে আছি মা ও ভাই বোনদের নিয়ে। আমি বাবাকে দেওয়া ওয়াদা মোতাবেক রাশিয়াতে যাই। কিন্তু কেউ যেতে দেয়নি। পরে আমি মাকে রাজী করাই।’ বক্তব্যে যোগ করেন মেয়র আইভী।

মেয়র বলেন, ‘সততা নিষ্ঠা ঠিক থাকলে কিছুই অসাধ্য না। অদম্য ই’চ্ছা না থাকলে ২০১১ সালে আমাকে ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ করে বিদেশে পাঠিয়ে দিত।’

আওয়ামী লীগের জ’ন্ম নিয়ে মেয়র আইভী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এ বি’ষয় নিয়ে খোলাসা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জেই আওয়ামী লীগের জ’ন্ম হয়েছে। এ বইয়ে আছে বঙ্গবন্ধু নারায়ণগঞ্জে আসলেই আনসার আলী, খান সাহেব ওসমান আলীর বাড়িতে বৈঠক করতেন। আওয়ামী লীগ গঠনের আগে চাষাঢ়া বাইতুল আমানে মিটিং করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বা’ধার কারণে করা যায়নি। পরে পাইকপাড়ার লোকজন বঙ্গবন্ধুকে পাইকপাড়ায় মিটিং করার অনুরোধ করেন। এবং আশ্বস্ত করা হয় যে সকল নিরাপত্তা দিবেন। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও কমিটি গঠন নিয়ে মিউচ্যুয়াল ক্লাবে সভা হলো। এ সভাতেই সি’দ্ধান্ত হলো কিভাবে আওয়ামী লীগ গঠন করা হবে। সেখানে খসড়া করে তিনদিন পর রোজ গার্ডেনে গিয়ে আওয়ামী মু’সলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ ঘোষণা করা হয়। যুবলীগের একটি স্মরণিকাতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বাণীতেও উল্লেখ আছে নারায়ণগঞ্জেই আওয়ামী লীগের জ’ন্ম।’

আইভী বলেন, ‘অনেকে বলেন বাইতুল আমানে আওয়ামী লীগের জ’ন্ম। কিন্তু প্রকৃত হবে সেটা হয়েছে মিউচ্যুয়াল ক্লাবে। সেদিন বাইতুল আমানে মিটিং হওয়ার কথা ছিল। তবে বা’ধার কারণে হয়নি। আর বাইতুল আমানে অনেকবার বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন। ওই সময়ে খান সাহেব ওসমান আলী, জোহা কাকা (একেএম সামসুজ্জোহা), মোস্তফা সারোয়ারদের ভূমিকা অপরিসীম।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো জ’ন্মের পর থেকেই শুনি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। সুতরাং আমাকে বিএনপি বা অন্য কিছু বানাতে পারবেন না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন মি’লনায়তনে হলি উইলস্ স্কুলের মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স’ন্তানদের বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই প্রদানকালে আইভী এসব কথা বলেন।

দৈনিক সংবাদের চিফ রিপোর্টার সালাম যোবায়েরের সঞ্চালনায় সদর উপজে’লা মুক্তিযোদ্ধা সং’সদ কমান্ডের কমান্ডার শাহজাহান ভ‚ইয়া জুলহাস, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফউদ্দিন সবুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here