জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স’রকার ও রাজনীতি বিভাগের এক না’রী অধ্যাপিকার বি’রুদ্ধে শি’শু গৃহকর্মীর স’ঙ্গে ‘অ’মানবিক আচরণ’ করার অ’ভিযোগ উঠেছে।

ওই না’রী অধ্যাপক বিভাগটির বর্তমান সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।শি’শু গৃহকর্মীর জন্য আলাদা টিকেট না কে’টে বাসে ঢাকা থেকে যশোর ৩০০ কিলোমিটার পুরোটা দাঁড় করিয়ে নিয়েছেন, এমন একটি ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে এ অ’ভিযোগ তোলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না।

যদিও স’রকার ও রাজনীতি বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা এ অ’ভিযোগটি মনগড়া ও কুৎসামূ’লক বলে দাবি করেছেন।বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মী মঞ্জুরুল আলম পান্না ফেইসবুকে তার টাইমলাইনে প্রথমে একটি ছবি ও পরে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড দেন। তাতে দেখা যায় ওই না’রী অধ্যাপকের সামনে সাত থেকে আট বছসর ব’য়সী একটি মে’য়ে শি’শু দাঁড়িয়ে আছে।

পান্না তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে অ’ভিযোগ তোলেন, অধ্যাপিকা তার ছে’লেমে’য়েদের জন্য বাসের টিকেট নিলেও সাত থেকে আট বছসর ব’য়সী কাজের মে’য়ের জন্য আলাদা কোনো সিট নেননি।

প্রায় ৩০০ কিলোমিটার যাত্রাপথর সেই মে’য়েকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।পান্নার ভাষ্যে, করো’না সিম্পটম থাকায় নাকি তাকে আলাদা রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অ’ভিযু’ক্ত অধ্যাপিকা।

স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়লে ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরিমন্ডলে ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত হয়। সাবেক ও বর্তমান শির্ক্ষাথীদের নি’ন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়।

অ’ভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপিকা নাসরীন সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আম’রা তিনজন দুইটা সিটে বসি। পথের মধ্যে মে’য়েটি আমাদের স’ঙ্গে বসেই আসে। ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে প্রায় আধাঘণ্টা মতো বাসে অ’পেক্ষা করতে হয়। সে সময় মে’য়েটি ও আমা’র ছোট ছে’লে উঠে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে পাশের ফেরি চলাচল দেখে। পরবর্তীতে নদী পার হলে আবার দুজনেই আমা’র স’ঙ্গে বসে’।

তিনি বলেন, ‘কিছুদূর আসার পর রাস্তায় গাছ কাটছিলো বলে একটু জ্যাম বাঁধে। জ্যামের সময়ও মে’য়েটি দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে বাইরে দেখছিল। পড়ে যেতে পারে দেখে আমি তার হাত ধরে রাখি।

এ ছাড়া দুই-এক জায়গায় আমা’র ছে’লেও উঠে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখছিল আর মাঝে মাঝে ঐ মে’য়েটিও। এই সময়ের মধ্যেই ঐ ব্যক্তি ছবিটি তুলেছে।’করো’না সিম্পটমের ব্যাপারে তিনি বলেন,

‘মে’য়েটির করো’নার সিম্পটম ছিল এ ধরনের কথা আমি কখনও বলিনি। তিনি মনগড়া কথা লিখেছেন। যদি করো’নার সিম্পটম থাকত তবে পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে করে তাকে কেন নিয়ে আসব? কেন ই বা তাকে আমা’র পাশে ও কোলে বসিয়ে নিয়ে আসব?’

তিনি আরো বলেন, ‘মে’য়েটি আমা’র স’ঙ্গে তিন বছর আছে। আমাকে ফুফু বলে ডাকে। মাঝে মাঝে মা বলেও ডাকে। মে’য়েটিকে আমি আমা’র নিজের মে’য়ের মতো দেখি। তাকে আমি এত পথ দাঁড় করিয়ে কেমনে নিয়ে আসব!

মে’য়েটি কোনো অ’ভিযোগ করেনি। তারপরও আমা’র বি’রুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’আলাদা সিট না নেয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেন, আমা’র বড় ছে’লে যশোর যাওয়ার কথা ছিল না। ফলে মে’য়েটিসহ আমি তিনজনের জন্য সিট নিয়েছিলাম। কিন্তু আগের রাতে বড় ছে’লে বায়না ধরে সেও যাবে।

আমি ভাবলাম কাউন্টারে গিয়ে আরেকটা সিট নিয়ে নিব। কিন্তু কাউন্টার থেকে ওরা জানাল সিট হবে একেবারে পেছনের দিকে। তাই আমি আর সিট নিইনি, পেছনে মে’য়েটি বা আমা’র ছে’লেদের একজনকে একা ছাড়তে চাইনি বলে। আমা’র পাশে বসিয়েই তাকে নিয়ে যাই।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে মঞ্জুরুল আলম পান্নার স’ঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি পুরো পথই ওই শি’শুকে সিটে বসানো ছাড়া নিতে দেখেছি। ওই শি’শুকে দাঁড়িয়ে থাকতে এবং কখনো কখনো বাসের মেঝেতে ওই শিক্ষকের পায়ের সামনে যে খালি জায়গাটা রয়েছে তাতে বসতেও দেখেছি। তবে তাকে সিটে বসানো হয়নি।

এটা সহ্য করতে না পেরে আমি প্র’তিবাদ করি। পু’লিশের সহযোগিতাও চেয়েছিলাম, হটলাইনে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হলেও স্থানীয় কন্ট্রোল রুম আশাব্যঞ্জক সহযোগিতা করেনি।সিটের ব্যাখ্যার বি’ষয়ে পান্না বলেন,

ওই বাসে ওইদিন মাঝের দিকেও সিট ফাঁকা ছিল। চাইলে কাউন্টারে এসেও আরেকটা সিট তিনি কাটতে পারতেন। এ ব্যাপারে বাস কাউন্টারে যোগাযোগ করলেই বি’ষয়টা জানা যাবে।

এদিকে অধ্যাপক নাসরীন সুলতানাও ফেইসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন যেখানে দেখা যায় যাত্রাপথে মে’য়েটি জানালার পাশের সিটে তার স’ঙ্গে বসেই ভ্রমণ করছেন।ওই ভিডিও পাঠিয়ে পান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

এটা তো বুঝাই যাচ্ছে যে এটা পরে ই’চ্ছা করে করা ভিডিও। যারা যশোর অঞ্চলের তাদের কাছে বাসের বাইরের দৃশ‍্যগুলো খুবই পরিচিত। এমন যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে বলে দেবেন,

ওই ভিডিও কোন এলাকার কাছাকাছি করা। যেহেতু তিনি যশোর নামবেন এবং আমা’র সরাসরি প্র’তিবাদাও ছিল মাগুরা পার হওয়ার পর।মঞ্জুরুল আলম পান্না মনে করছেন তার স’ঙ্গে বাগবিগণ্ডা হওয়ার পরই ভিডিওটি সাজিয়ে ধারণ করেন ওই শিক্ষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here