বাংলাদেশের ক্রিকে’টের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, টাইগার ক্রিকে’টের পোস্টার বয়, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার কিংবা সব্যসাচী ক্রিকেটার-এমন আরও কতো বিশেষণে চাইলেই তাকে বিশেষায়িত করা যায়। বিশেষণের ডালা না হয় সরিয়ে রাখা যাক। কখনো কখনো হয়তো সাকিব এসবের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।

সাকিবকে আসলে কোন ছকে বাধবেন? এ ভাবনায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা হয়তো গলদঘর্ম হয়ে যান মাঠে। নিজের জ্ব’লে ওঠার দিনে সাকিব যে অনন্য, অপ্রতিদ্ব’ন্দ্বী। কিন্তু এ সাকিবই হোঁচট খেলেন। অজানা এক অন্ধকার গ্রাস করল তাকে। নিজের ক্যারিয়ার তো বটেই, দেশের ক্রিকে’টেও নেমে আসে ঘোর অমানিশা। হঠাৎ নি’ষেধাজ্ঞার বেড়াজালে সাকিব। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো ঘ’টনা।

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা গো’পন করায় শা’স্তিস্বরূপ এক বছরের নি’ষেধাজ্ঞার খড়্গ নেমে আসে সাকিবের ও’পর। হতবিহ্বল হয়ে পড়েন বিসিবি কর্মকর্তা, সতীর্থ আর ভক্ত-সমর্থকরা।

সাকিব নি’ষিদ্ধ। টাইগারদের লড়তে হবে-এই কাণ্ডারিকে ছাড়াই, এটিই স্বাভাবিক। নি’ষেধাজ্ঞার এক বছরে সাকিব খেলতে পারেননি বেশকিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ। টাইগারদের ড্রেসিংরুমে সাকিব থাকতে পারেননি এমন কিছু ম্যাচের কথা জেনে নেয়া যাক-

সাকিব নি’ষিদ্ধের পরপরই ভারত সফরে যায় বাংলাদেশ দল। দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষ’ত্রকে ছাড়া মাঠে নামে বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচটা খেলতে হয় সাকিবকে ছাড়াই। দুই টেস্ট সিরিজে নাস্তানুবাদ হয় টাইগাররা।

এরপর টি টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত জয় দিয়ে শুরু করে তামিম-মুশফিকরা। তবে পরের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়াতে হয় তাদের।

এরপর বহুল আলোচিত পাকিস্তান সফর। এই সফরেও সাকিববিহীন বাংলাদেশ। দুই দফায় খেলা হয় এক টেস্ট ও দুই টি-টোয়েন্টি। সাকিবকে ছাড়া এই সিরিজেও ছন্নছাড়া টাইগার শিবির।

পাকিস্তান সিরিজের পর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। এখানেও অনুপস্থিত সাকিব। তাকে ছাড়াই সাদা পোশাকের ক্রিকে’টে জয় উদযাপন করে টাইগাররা। এরপর ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। টি টোয়েন্টি সিরিজেও সফরকারী জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে সাকিববিহীন বাংলাদেশ।

এরপরই শুরু হয় ক’রোনার প্র’কোপ। থমকে যায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। বাতিল হয় একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ। এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজে খেলেনি টিম বাংলাদেশ। মাঝে শ্রীলঙ্কা সফরের সূচি থাকলেও সেটি ভেস্তে গেছে।

পুরো এক বছর ক্যালেন্ডারের হিসাব বলছে, নি’ষেধাজ্ঞার এক বছরে সাকিব খেলতে পারেননি চারটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে আর সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

সাকিবের ও’পর থেকে কালো মেঘের অমানিশা কে’টে গেছে। এক বছরের দহন পর্ব শেষ। স্বর্ণ পু’ড়ে খাঁটি হবার মতো নতুন রূপে ফিরবেন সাকিব। লড়াইয়ের বাসনা নিয়ে আবারো বাইশ গজে শাসন করবেন তিনি। সে অপেক্ষার প্রহর গুনছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here