চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজে’লার নসিমন উল্টে নি’হত বালিয়াদিঘী গ্রামের আট পরিবারে চলছে শো’কের মাতম। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ধান কে’টে বাড়ি আসার পথে ধানসহ নসিমনে থাকা ১৫ জন শ্র’মিক সড়কের ধারে গর্তে উল্টে পড়েন। এ ঘ’টনায় নি’হত আটজনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে।

একই গ্রামের ১৫ জনের মধ্যে আটজনের প্রা’ণহীন দে’হ গ্রামে ফেরে। এ ঘ’টনায় বালিয়াদিঘীগ্রামে নেমে এসেছে শো’কের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে দেখতে যাওয়া মানুষদের চোখেও নেমে আসে পানি।

নি’হতদের প্রত্যেক পরিবারকে উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ হতে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হয় বলে জানান শিবগঞ্জ উপজে’লা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী।

নি’হতদের মধ্যে কিশোর মিজানুর রহমান মিলু, মিঠুন ও আহাদের বিয়ে হয়েছিল কয়েক মাস আগে। আসমা, আমেনা বেগম ও মিঠুনের স্ত্রী- তিনজনই অ’ন্তঃসত্ত্বা। মুহূর্তের ঘ’টনায় স্বা’মী হা’রিয়ে তারা হয়ে গেলেন বিধবা। শো’কে কাতর তারা। এদের পরিবারের মা, দাদি ও স্ত্রীরা কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজে’লার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামে কবরস্থানে জানাজার জন্য একের পর এক ম’রদে’হগুলো নিয়ে যাওয়ারর সময় মনে হচ্ছিল যেন লা’শের মিছিল। ৭ জনের বসবাস একই এলাকায়। তাদের জানাজা, কবর একই জায়গায়। পাশাপাশি কবর দেয়া হয় সাতজনকে। বাড়ি থেকে ২২ দিন আগে বারিয়াদিঘী গ্রামের ১৫ জন একসাথে ৭৩ কিলোমিটার দূরে গিয়েছিলেন শ্র’মিক হিসেবে ধান কাটতে। তারা একইসাথে ফেরার পথে বাড়ি থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে প্রা’ণ হারায় বাবা-ছেলেসহ আটজন।

বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘ’টনায় মা’রা যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজে’লার বালিয়াদিঘী গ্রামেরই ৭ জন। এদের মধ্যে নি’হত তাজেমুল হক ও তার ছেলে মিঠুন ,আবুল কাশেদ, বাবু, কারিম, মিজানুর রহমান মিলু ও লাওঘাটা গ্রামের আতাউর রহমান ও আহাদ আলী।

নওগাঁ জে’লার পত্নীতলা উপজে’লার শিবপুর চৌরহাট গিরিসা গ্রামে ২২ দিন আগে অন্যের জমিতে শ্র’মিক হিসেবে ধান কাটতে যান তারা। বুধবার রাত ১২টায় সেখান থেকে সবার পারিশ্র’মিকের প্রায় দেড়শ মন ধান নিয়ে নসিমনে বোঝাই করে সেই নসিমনেই চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো না ফুটতেই ভাঙ্গা সড়কে নসিমনের চালক নি’য়ন্ত্রণ হারালে সড়কের পাশে গর্তে পড়ে যায়। নিভে যায় জীবনের আলো। ধানবোঝাই নসিমনের নিচে চা’পা পড়ে মা’রা যান ৭ জন। পরে আরো একজনসহ ৮ জন প্রা’ণ হা’রান।

নি’হত আহাদের মা তৈফুল বেগম ও মিঠুনের স্ত্রী বলছিলেন, ৩০ মিনিট আগেও ফোন করে আহাদ ও মিঠু জানায় কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবো বাড়ি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here